কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্সে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধনী দিনে দেখা মিলল এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের। একদিকে শিমরন হেটমায়ারের ব্যাটে গেইলকে ছাড়িয়ে যাওয়ার নতুন রেকর্ড, অন্যদিকে রোমারিও শেফার্ডের অবিশ্বাস্য হ্যাটট্রিক ও ‘ফাইফার’—এই দুইয়ে মিলে স্কটল্যান্ডকে ৩৫ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু করল দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
হেটমায়ার-ঝড়ে গেইলের রেকর্ড ধূলিসাৎ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা কিছুটা ধীরগতিতে করেছিল ক্যারিবীয়রা। পাওয়ার প্লে (Powerplay)-তে ব্র্যান্ডন কিং ও শাই হোপের উদ্বোধনী জুটি ২০ গজের বৃত্তে খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও, মিডল অর্ডারে নামা শিমরন হেটমায়ার সব হিসেব বদলে দেন। মাত্র ২২ বলে ফিফটি পূর্ণ করে তিনি ভেঙে দেন ২০০৯ সালে ক্রিস গেইলের গড়া (২৩ বলে ফিফটি) ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্রুততম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হাফ-সেঞ্চুরির রেকর্ড। শেষ পর্যন্ত ৩৬ বলে ৬৪ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। রোভম্যান পাওয়েল ও শেরফানে রাদারফোর্ডের ঝোড়ো ক্যামিও (Cameo)-তে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮২ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
মাঝপথে স্কটল্যান্ডের লড়াই ও পতন ১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে হোঁচট খেলেও চতুর্থ উইকেটে টম ব্রুচ ও অধিনায়ক রিচি বেরিংটনের ৪৬ বলে ৭৮ রানের জুটি স্কটল্যান্ডকে জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। ১১৫ রানে জেসন হোল্ডার যখন বেরিংটনকে ফেরান, তখনও ম্যাচটি ছিল উন্মুক্ত। কিন্তু এরপরই মঞ্চে আবির্ভূত হন রোমারিও শেফার্ড, যার বোলিং তোপে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে স্কটিশদের ব্যাটিং লাইনআপ।
শেফার্ডের ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক ও ‘ফাইফার’ ইনিংসের ১৭তম ওভারে বোলিংয়ে এসে ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান রোমারিও শেফার্ড। ওভারের দ্বিতীয় বল থেকে শুরু হয় তার তান্ডব। ম্যাথিউ ক্রস, মাইকেল লেস্ক এবং ওলিভার দাভিদসনকে পরপর তিন বলে সাজঘরে ফিরিয়ে পূর্ণ করেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের প্রথম ‘হ্যাটট্রিক’। এখানেই ক্ষান্ত হননি তিনি; ওই ওভারের শেষ বলে সাফিয়ান শরিফকে আউট করে চলতি বিশ্বকাপের প্রথম ‘ফাইফার’ (৫ উইকেট) অর্জন করেন এই পেসার। ৩ ওভারে মাত্র ২০ রান খরচায় ৫ উইকেট নিয়ে তিনি এখন ব্রেট লি, কাগিসো রাবাদা এবং প্যাট কামিন্সদের মতো কিংবদন্তিদের অভিজাত তালিকায় ঠাঁই করে নিলেন।
স্কটল্যান্ডের আত্মসমর্থন ও ক্যারিবীয় উৎসব শেফার্ডের সেই ভয়ংকর ওভারের পর স্কটল্যান্ডের আর ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ ছিল না। ৫ উইকেটে ১৩৩ রান থেকে মুহূর্তেই তাদের স্কোর দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ১৩৩। শেষ পর্যন্ত ১৯তম ওভারে ১৪৭ রানে অলআউট হয় স্কটল্যান্ড। জেসন হোল্ডার ৩ উইকেট নিয়ে শেফার্ডকে যোগ্য সঙ্গ দেন। ৩৫ রানের এই জয়ে নেট রান রেটে (Net Run Rate) অনেকটা এগিয়ে থেকেই আসর শুরু করল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
বিশ্বকাপের প্রথম দিনেই ইডেনে ক্রিকেটের যে রোমাঞ্চ দেখা গেল, তা আগামী দিনগুলোর জন্য এক দারুণ বার্তা দিয়ে রাখল। বিশেষ করে শেফার্ডের হ্যাটট্রিক এবং হেটমায়ারের ব্যাটিং রেকর্ড—দুই মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আবারও জানান দিল, কেন তারা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের অন্যতম ভয়ংকর দল।