দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ৪৬তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি)। এই বিসিএসের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৪৫৭ জন প্রার্থীকে সাময়িকভাবে সুপারিশ করা হয়েছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাসুমা আফরীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
এর আগে পিএসসির এক বিশেষ সভায় ফলাফল অনুমোদনের পর এই মেধা তালিকা প্রকাশ করা হয়। মোট ৩ হাজার ১৪০টি শূন্য পদের বিপরীতে পরিচালিত এই প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের পছন্দক্রম এবং মেধার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়েছে।
রেকর্ড গতির ফল প্রকাশ ও প্রযুক্তির ব্যবহার
৪৬তম বিসিএসের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় পিএসসি এক নজিরবিহীন গতি প্রদর্শন করেছে। সাধারণত বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘ সময় লাগলেও, এবার আধুনিক ‘Circular Evaluation System’ বা বৃত্তাকার মূল্যায়ন পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে অভাবনীয় সাফল্য মিলেছে। যেখানে ৪৪তম বিসিএসের লিখিত ফলাফল প্রকাশ করতে কমিশনের প্রায় ১৫ মাস সময় লেগেছিল, সেখানে ৪৬তম বিসিএসের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে মাত্র তিন মাসেরও কম সময়ে।
নিয়োগপ্রক্রিয়ার পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এই বিসিএসে অংশ নিতে ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৯৮৬ জন চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে প্রিলিমিনারি (Preliminary) পরীক্ষায় সশরীর উপস্থিত ছিলেন ২ লাখ ৫৪ হাজার ৫৬১ জন। প্রিলিমিনারি বাছাই শেষে ২১ হাজার ৩৯৭ জন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ ৪ হাজার ৫০ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা (Viva-Voce) শেষে আজ এই চূড়ান্ত সুপারিশ তালিকা প্রকাশ করা হলো।
ক্যাডারভিত্তিক নিয়োগের খতিয়ান
৪৬তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে সবচেয়ে বড় নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। এই ক্যাডারে ১ হাজার ৬৮২ জন সহকারী সার্জন এবং ১৬ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন হিসেবে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এ ছাড়া মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্যাডারের পরিসংখ্যান নিম্নরূপ:
শিক্ষা ক্যাডার: ৯২০ জন
প্রশাসন ক্যাডার: ২৭৪ জন
পুলিশ ক্যাডার: ৮০ জন
পররাষ্ট্র ক্যাডার: ১০ জন
এ ছাড়াও অন্যান্য কারিগরি ও পেশাগত (Technical and Professional) ক্যাডারের বিভিন্ন পদে মেধাতালিকা অনুযায়ী যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচন করা হয়েছে। ক্যাডার বৈচিত্র্য এবং পদের গুরুত্ব বিবেচনায় এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বচ্ছতা ও গতিশীলতায় নতুন দিগন্ত
নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনাকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন পিএসসির বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম। আধুনিক মূল্যায়ন পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে ফলাফলের নির্ভুলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গতিশীলতা আনাই কমিশনের মূল লক্ষ্য ছিল। পিএসসি কর্মকর্তাদের মতে, এই দ্রুত ফলাফল প্রকাশ বিসিএস প্রত্যাশীদের মধ্যে কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা কমিয়ে আনবে এবং সরকারি চাকরিতে মেধাবীদের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি করবে।
চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নামের তালিকা এবং বিস্তারিত ফলাফল পিএসসির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে।