• খেলা
  • ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ঝুঁকি: ভারত-পাক দ্বৈরথ বাঁচাতে লাহোরে আইসিসি, বিসিবি প্রধানের উপস্থিতিতে চরম উত্তেজনা

৫০০ মিলিয়ন ডলারের ঝুঁকি: ভারত-পাক দ্বৈরথ বাঁচাতে লাহোরে আইসিসি, বিসিবি প্রধানের উপস্থিতিতে চরম উত্তেজনা

খেলা ১ মিনিট পড়া
৫০০ মিলিয়ন ডলারের ঝুঁকি: ভারত-পাক দ্বৈরথ বাঁচাতে লাহোরে আইসিসি, বিসিবি প্রধানের উপস্থিতিতে চরম উত্তেজনা

আইপিএল বিতর্ক ও আইসিসি’র ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আচরণের জেরে টালমাটাল বিশ্ব ক্রিকেট; লাহোরে পিসিবি প্রধানের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে আইসিসি ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা।

লাহোর: বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এবং লাভজনক দ্বৈরথ ‘ভারত-পাকিস্তান’ ম্যাচ ঘিরে তৈরি হওয়া নজিরবিহীন সংকট নিরসনে এবার সরাসরি ময়দানে নেমেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, তা সামাল দিতে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের লাহোরে পৌঁছেছেন আইসিসি’র ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা। এই কূটনৈতিক তৎপরতায় এক গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল-ও।

৫০০ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক সমীকরণ ও সম্ভাব্য বিপর্যয়

ক্রিকেট বিশ্বের বাণিজ্যিক মানচিত্রে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের গুরুত্ব অপরিসীম। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, একটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ের মোট বাণিজ্যিক মূল্য (Market Value) প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বা ৫০০ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে রয়েছে সম্প্রচার স্বত্ব (Broadcasting Rights), বিজ্ঞাপন প্রিমিয়াম, স্পনসরশিপ অ্যাক্টিভেশন এবং টিকিটের বিশাল রাজস্ব।

শিল্পখাতের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুধুমাত্র এই একটি ম্যাচ থেকেই বিজ্ঞাপন বাবদ আয় হওয়ার কথা প্রায় ৩০০ কোটি ভারতীয় রুপি। সম্প্রচার মাধ্যমগুলোতে ১০ সেকেন্ডের একটি ‘অ্যাড স্পট’ (Ad Spot)-এর দাম ২৫ থেকে ৪০ লাখ রুপি পর্যন্ত ঠেকেছে, যা অন্য যেকোনো নক-আউট ম্যাচের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। পিসিবি যদি তাদের বয়কটের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে, তবে আইসিসি ও অফিশিয়াল ব্রডকাস্টাররা এক বিশাল আর্থিক লোকসানের মুখে পড়বে, যা পুরো টুর্নামেন্টের কাঠামোকেই ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

সংকটের মূলে আইপিএল বিতর্ক ও বিসিবি’র অবস্থান

বর্তমান এই চরম উত্তেজনার সূত্রপাত হয়েছিল বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)-এর নির্দেশে বাংলাদেশের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (IPL) থেকে বাদ দেওয়ার পর ঢাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে বিসিবি তাদের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে আয়োজনের দাবি জানায়।

তবে আইসিসি সেই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে নাটকীয়ভাবে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। আইসিসি’র এই ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ এবং একতরফা আচরণের অভিযোগ তুলে পিসিবি ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বয়কটের ঘোষণা দেয়। পিসিবি’র অভিযোগ—আইসিসি কেবল একটি নির্দিষ্ট বোর্ডের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।

লাহোরে হাই-ভোল্টেজ বৈঠক: বুলবুল ও ইমরান খাজার মিশন

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইসিসি’র ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা আজ পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। পিসিবির মুখপাত্র আমির মির এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, এই বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এখানে টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হবে।

এদিকে, বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল-ও বর্তমানে পাকিস্তানে অবস্থান করছেন। তিনি আজ আইসিসি’র এক জরুরি বৈঠকে অংশ নেবেন, যেখানে অন্যান্য বোর্ড প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ঢাকায় ফেরার আগে তিনি পিসিবি প্রধানের সঙ্গেও আলাদাভাবে সাক্ষাৎ করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার এই সংহতি আইসিসি’র ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

পিসিবি’র অনড় অবস্থান ও ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি

ভারতীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে, পিসিবি সমঝোতার জন্য আইসিসি’র সঙ্গে সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছে। বিশেষ করে সাংবাদিক বিক্রান্ত গুপ্ত দাবি করেন, পাকিস্তান আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান চাইছে। তবে পিসিবির মুখপাত্র আমির মির এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, পাকিস্তান তাদের অবস্থানে অনড় এবং আইসিসি’র পক্ষ থেকেই আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এখন দেখার বিষয়, লাহোরের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক থেকে কোনো ‘ব্রেক-থ্রু’ আসে কি না। ক্রিকেট বিশ্বের নজর এখন লাহোরের দিকে, কারণ এই বৈঠকের ওপরই নির্ভর করছে ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক সাফল্য এবং ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথের ভাগ্য।