রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনি প্রচারণার ২২তম দিনে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। এদিন কেউ কেউ জাতির উদ্দেশে ভাষণও দেন। নির্বাচিত হলে কী করবেন—এমন নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন তারা।
দিনের প্রথম কর্মসূচিতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরে নিজের নির্বাচনি পথসভায় যোগ দেন ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরে তিনি ঢাকা-১৪, ঢাকা-১৫ ও ঢাকা-১৬ আসনে অনুষ্ঠিত আরও পাঁচটি সমাবেশে অংশ নেন।
এদিন সকালে বাড্ডার সাঁতারকুলে ঢাকা-১১ আসনের শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী নাহিদ ইসলামের নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ওই সভায় নাহিদ ইসলামও বক্তব্য রাখেন। বিকালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন নাহিদ ইসলাম। এসব কর্মসূচিতে শীর্ষ নেতারা নিজেদের নানা আশ্বাসের কথা তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, এদিন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ঢাকা-৮ আসনের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির মির্জা আব্বাস ও এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ নিয়ে নিজের অস্বস্তির কথাও প্রকাশ করেন মির্জা আব্বাস।
এছাড়া হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রয়াত আমির জুনায়েদ বাবুনগরীকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের অভিযোগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন হেফাজতে ইসলামী বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা।
নিরাপদ ঢাকা গড়ার অঙ্গীকার তারেক রহমানের
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দিনের প্রথম কর্মসূচিতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরে নিজের নির্বাচনি পথসভায় যোগ দেন ঢাকা-১৭ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এ সময় ভোটারদের উদ্দেশে তিনি নানা প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, বিএনপি ১২ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করলে ঢাকা মহানগরে ৪০টি খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে ঢাকাকে একটি নিরাপদ নগর হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন তিনি। মা-বোনদের নিরাপদ চলাচল এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
তারেক রহমান ইসিবি চত্বর থেকে জসিম উদ্দিন পর্যন্ত সড়ক প্রশস্ত করার প্রতিশ্রুতিও দেন।
এছাড়া নারীদের স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। কৃষকদের জন্য সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতিও দেন।
ঢাকা-১৬ আসনের মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এই আসনে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি বিদেশে চাকরির উদ্দেশ্যে যেতে আগ্রহীদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।
তিনি আরও জানান, দেশের প্রতিটি এলাকায় অন্তত একটি করে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে। সেখানে ভাষা শিক্ষা ও বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণরা নিজ উদ্যোগে ব্যবসা করতে পারবে কিংবা বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।