• আন্তর্জাতিক
  • পশ্চিম তীরে ইসরাইলি ‘সম্প্রসারণবাদ’ রুখতে ৮ মুসলিম দেশের কঠোর হুঁশিয়ারি: রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর কড়া বার্তা

পশ্চিম তীরে ইসরাইলি ‘সম্প্রসারণবাদ’ রুখতে ৮ মুসলিম দেশের কঠোর হুঁশিয়ারি: রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর কড়া বার্তা

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
পশ্চিম তীরে ইসরাইলি ‘সম্প্রসারণবাদ’ রুখতে ৮ মুসলিম দেশের কঠোর হুঁশিয়ারি: রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর কড়া বার্তা

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি সার্বভৌমত্ব প্রত্যাখ্যান করে পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও কাতারসহ আটটি রাষ্ট্রের যৌথ অবস্থান; সহিংসতা উসকে দেওয়ার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের ‘সম্প্রসারণবাদী নীতি’ (Expansionist Policy) এবং ক্রমবর্ধমান অবৈধ বসতি স্থাপনের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে বিশ্বমঞ্চে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে পাকিস্তানসহ বিশ্বের প্রভাবশালী আটটি মুসলিম দেশ। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো জানায়, ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের নতুন আইনি ও প্রশাসনিক বিধিমালা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

অখণ্ড জোটের তীব্র নিন্দা

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে মিশর, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, সৌদি আরব এবং কাতার। বিবৃতিতে দেশগুলো ‘ইসরাইলিদের অবৈধ সার্বভৌমত্ব (Sovereignty) আরোপ’ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে একটি নতুন ‘Administrative Reality’ বা প্রশাসনিক বাস্তবতা প্রয়োগের লক্ষ্যে গৃহীত ইসরাইলি সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানায়। মুসলিম বিশ্বের এই শক্তিশালী জোটের মতে, ইসরাইলের এই ধরণের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন এবং শান্তি প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।

ইসরাইলি মন্ত্রিসভার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও প্রেক্ষাপট

এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এল, যার মাত্র একদিন আগে ইসরাইলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের জন্য জমি কেনা সহজ করার একটি বিতর্কিত প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। একইসঙ্গে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োগকারী ক্ষমতা (Enforcement Power) বৃদ্ধির জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের মতে, এই সিদ্ধান্তগুলো মূলত পশ্চিম তীরের ওপর ইসরাইলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি ‘Geopolitical’ কৌশল।

সার্বভৌমত্ব ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার

সোমবারের বিবৃতিতে আটটি মুসলিম দেশ পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, ‘অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর ইসরাইলের কোনো বৈধ সার্বভৌমত্ব নেই’। মন্ত্রীরা সতর্ক করে বলেন, ইসরাইলি সরকারের অব্যাহত এই আগ্রাসন ওই অঞ্চলে নতুন করে সহিংসতা ও ‘Regional Conflict’ বা আঞ্চলিক সংঘাতের আগুন উসকে দিচ্ছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ (Self-determination) এবং স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের বৈধ অধিকারকে অস্বীকার করার ক্ষমতা কারও নেই।

বৈশ্বিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আটটি প্রভাবশালী মুসলিম রাষ্ট্রের এই সম্মিলিত অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে ইসরাইলের ওপর চাপ বাড়াতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে সৌদি আরব, তুরস্ক ও কাতারের মতো দেশগুলো যখন একই সুরে কথা বলে, তখন তা বিশ্বব্যাপী ‘Diplomatic Discourse’-এ বিশেষ গুরুত্ব পায়। মন্ত্রীরা ফিলিস্তিনি জনগণের রাষ্ট্রীয় মর্যাদার অধিকার পূরণের ওপর পুনরায় জোর দিয়ে এই সংঘাত নিরসনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ইসরাইলের এই ধরণের একতরফা পদক্ষেপ কেবল ফিলিস্তিনিদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে না, বরং একটি ‘Two-State Solution’ বা দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকেও চিরতরে বিলুপ্ত করার পথে নিয়ে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

Tags: middle east israel palestine international law west bank joint statement muslim countries expansionist policy sovereignty news