অনশন শুরুর পর নতুন করে দেওয়া এই সাজা ইরানে ভিন্নমতের বিরুদ্ধে চলমান কঠোর দমন-পীড়নের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
রবিবার তার সমর্থকদের বরাতে জানানো হয়, শনিবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের একটি আদালত এই রায় দেয়। নার্গিসের আইনজীবী মোস্তাফা নিলি জানান, ‘সমাবেশ ও আঁতাতের’ অভিযোগে নার্গিস মোহাম্মদিকে ছয় বছর এবং ‘রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার’ অভিযোগে দেড় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার ওপর দুই বছরের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং রাজধানী তেহরান থেকে দূরের খোসফ শহরে দুই বছরের অভ্যন্তরীণ নির্বাসনের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
৫৩ বছর বয়সী নার্গিস মোহাম্মদি গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে অনশনে ছিলেন। সাজা ঘোষণার পর অসুস্থতার কারণে তিনি অনশন ভেঙেছেন। গত ডিসেম্বরে এক মানবাধিকার আইনজীবীর স্মরণসভায় অংশ নিতে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় তিনি প্রকাশ্যে বিচার ও জবাবদিহির দাবি জানিয়েছিলেন।
এর আগে চিকিৎসাজনিত কারণে অস্থায়ী মুক্তি পেলেও নার্গিস আন্দোলন ও প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠ ছিলেন।
নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদি আগে থেকেই রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে কারাদণ্ডে দণ্ডিত অবস্থায় কারাগারে ছিলেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি হৃদ্রোগসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগেছেন বলে তার সমর্থকেরা জানিয়েছেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই সাজা ইরানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে।