ইরানের ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী সামনে রেখে জাতির উদ্দেশ্যে এক তেজস্বী ভাষণ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত হতে যাওয়া বার্ষিক সমাবেশে ব্যাপক জনসমাগমের মাধ্যমে বৈশ্বিক ‘শত্রুদের হতাশ’ করার ডাক দিয়েছেন তিনি। খামেনির মতে, ইরানি জাতির এই ঐক্যবদ্ধ দৃঢ়তাই হবে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ চেষ্টার বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী জবাব।
জাতীয় শক্তি ও মর্যাদার প্রতীক ১১ ফেব্রুয়ারি
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বার্তায় আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, ১১ ফেব্রুয়ারি কেবল একটি ঐতিহাসিক দিন নয়, বরং এটি ইরানি জাতির ‘National Dignity’ এবং অটুট শক্তির এক জীবন্ত দলিল। ১৯৭৯ সালের এই দিনে ইরানি জনগণ কয়েক দশকের ‘Foreign Intervention’ বা বিদেশি হস্তক্ষেপের অবসান ঘটিয়ে দেশজুড়ে এক মহাবিপ্লব সফল করেছিল। খামেনি জোর দিয়ে বলেন, সেই সময় থেকে আজ অবধি সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো ইরানের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছে, কিন্তু জনগণের সচেতনতা তাদের বারবার প্রতিহত করেছে।
ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও শক্তিশালী ‘জাতীয় ইচ্ছাশক্তি’
সমসাময়িক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা আলোচনা থাকলেও খামেনি এক ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “একটি জাতির শক্তি কেবল 'Missiles' বা 'Warplanes'-এর ওপর নির্ভর করে না। জাতীয় শক্তির মূল স্তম্ভ হলো জনগণের ইচ্ছাশক্তি, উদ্দীপনা এবং প্রলোভনের মুখে অনড় থাকার মানসিকতা।” তিনি আরও মন্তব্য করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত শত্রুরা ইরানি জাতির মনোবল দেখে হতাশ না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত দেশের সার্বভৌমত্ব ঝুঁকিতে থাকতে পারে। তাই এই বার্ষিক সমাবেশকে তিনি ‘Strategic Willpower’ প্রদর্শনের মোক্ষম সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
বিশ্বমঞ্চে এক ‘অতুলনীয়’ গণ-উৎসব
খামেনির মতে, প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে নিজেদের স্বাধীনতা ও বিপ্লবের আদর্শ উদযাপন করার এমন উদাহরণ বর্তমান বিশ্বে ‘Unparalleled’ বা অতুলনীয়। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে বিপ্লবের কয়েক দশক পরেও জনগণের মধ্যে এমন স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ ও অংশগ্রহণ দেখা যায় না বলে তিনি দাবি করেন। তিনি ইরানি যুবসমাজকে বিজ্ঞান, আধুনিক প্রযুক্তি এবং আধ্যাত্মিক অগ্রগতির মাধ্যমে দেশের ‘Market Value’ ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
শত্রুর প্রলোভন ও যুবসমাজের ভবিষ্যৎ
ভাষণে খামেনি বর্তমান প্রজন্মের ওপর তার অগাধ বিশ্বাসের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ইরানের তরুণরা জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং নৈতিকতার সমন্বয়ে দেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বিশেষ করে শত্রুদের পক্ষ থেকে আসা বিভিন্ন ‘Geopolitical’ প্রলোভন এবং সাংস্কৃতিক আগ্রাসন মোকাবিলায় যুবসমাজকে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে। খামেনি মনে করেন, ঐক্যবদ্ধ জনসমষ্টি যখন রাজপথে নামে, তখন সকল চক্রান্ত ও নেতিবাচকতা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
ইসলামি বিপ্লবের এই ৪৭তম বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে তেহরানসহ ইরানের প্রধান শহরগুলোতে এরই মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বৈশ্বিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে খামেনির এই বক্তব্য দেশীয় সংহতি রক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একটি ‘Strong Message’ দেওয়ার কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।