জলবসন্ত বা চিকেনপক্স (Chickenpox) একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এই সময়ে রোগীর শরীরে প্রচণ্ড প্রদাহ (Inflammation), ব্যথা এবং চুলকানি অনুভূত হয়। অনেক ক্ষেত্রে মুখগহ্বরের ভেতরেও ছোট ছোট ক্ষত বা র্যাশ দেখা দেয়, যা খাবার গ্রহণে চরম অস্বস্তি তৈরি করে। চিকিৎসকদের মতে, এই সময়ে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাবারের কোনো বিকল্প নেই। তবে অসাবধানতাবশত কিছু খাবার খেলে তা হিতে বিপরীত হতে পারে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু উপাদান ভাইরাসের বংশবিস্তারে সহায়তা করে এবং শরীরের জ্বালাপোড়া বাড়িয়ে দেয়।
সুস্থতা ত্বরান্বিত করতে জলবসন্তের রোগীদের ডায়েট (Diet) থেকে যে ৪টি খাবার বাদ দেওয়া জরুরি, তা নিচে আলোচনা করা হলো:
১. উচ্চ মাত্রার সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার (Saturated Fat)
চর্বিযুক্ত খাবার যেমন—মাখন, পনির, নারকেল তেল, চকলেট এবং অতিরিক্ত তেলযুক্ত ভাজাপোড়া খাবার শরীরের প্রদাহ বাড়িয়ে দেয়। এই খাবারগুলোতে থাকা উচ্চ মাত্রার সম্পৃক্ত চর্বি বা 'স্যাচুরেটেড ফ্যাট' জলবসন্তের গুটির জ্বালাপোড়া এবং চুলকানি বৃদ্ধি করতে পারে। এ ছাড়া এই সময়ে পরিপাকতন্ত্র কিছুটা দুর্বল থাকে, ফলে চর্বিযুক্ত খাবার হজম করা কঠিন হয়ে পড়ে, যা রোগীর শারীরিক দুর্বলতা আরও বাড়িয়ে দেয়।
২. অতিরিক্ত মসলা ও ঝালযুক্ত খাবার
জলবসন্তের সময় মুখের ভেতরে এবং গলার কাছে অনেক সময় ক্ষত বা আলসার (Oral Lesions) তৈরি হয়। অতিরিক্ত ঝাল, মরিচ বা গরম মসলাযুক্ত খাবার এই ক্ষতগুলোতে তীব্র জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে। এই ধরনের 'স্পাইসি ফুড' গ্রহণ করলে রোগীর খাওয়ার রুচি আরও কমে যায় এবং মুখগহ্বরের টিস্যুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই এই সময়ে পাতলা ঝোল বা সেদ্ধ করা হালকা খাবার গ্রহণ করা শ্রেয়।
৩. অতিরিক্ত লবণ ও অ্যাসিডিক খাবার
লবণাক্ত খাবার বিশেষ করে প্যাকেটজাত স্ন্যাকস বা সল্টেড বাদাম মুখের ভেতরের ক্ষতকে আরও উত্তেজিত করে তোলে। লবণে থাকা সোডিয়াম শরীরের জলীয় ভাব বা হাইড্রেশন লেভেলে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করতে পারে। লবণের পাশাপাশি লেবু বা টক জাতীয় অ্যাসিডিক খাবারও এই সময়ে এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলি মুখের ঘায়ের সংস্পর্শে এলে অসহ্য যন্ত্রণার সৃষ্টি করে।
৪. অরগিনিনসমৃদ্ধ খাবার (Arginine-rich Foods)
চিকিৎসা বিজ্ঞানের তথ্যমতে, 'অরগিনিন' (Arginine) নামক এক ধরণের অ্যামিনো অ্যাসিড জলবসন্তের ভাইরাসের বংশবিস্তারে বা রেপ্লিকেশনে (Virus Replication) সরাসরি সহায়তা করে। চীনাবাদাম, ওয়ালনাট, পিনাট বাটার, কিশমিশ এবং চকলেটে প্রচুর পরিমাণে এই অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে। সাধারণত অরগিনিন শরীরের জন্য উপকারী হলেও, চিকেনপক্সের সময় এই উপাদানটি ভাইরাসের শক্তি বাড়িয়ে দেয়, ফলে রোগ সারতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে।
পথ্য ও জীবনযাত্রা: বিশেষ পরামর্শ
জলবসন্তের রোগীকে একবারে বেশি খাবার না দিয়ে অল্প অল্প করে বারবার পুষ্টিকর খাবার দেওয়া উচিত। খাবারে পর্যাপ্ত ভিটামিন (Vitamins), খনিজ পদার্থ ও ক্যালরি (Calories) নিশ্চিত করতে হবে। শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে ডাবের পানি, তাজা ফলের রস (অ্যাসিডিক নয় এমন) এবং প্রচুর পানি পান করা জরুরি। মনে রাখবেন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস কেবল শারীরিক কষ্টই কমায় না, বরং ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও (Immune System) শক্তিশালী করে তোলে।