• রাজনীতি
  • ‘জনগণ কেন্দ্রে এলেই রুখে দেওয়া যাবে সব ষড়যন্ত্র’: সপরিবারে ভোট দিলেন তারেক রহমান

‘জনগণ কেন্দ্রে এলেই রুখে দেওয়া যাবে সব ষড়যন্ত্র’: সপরিবারে ভোট দিলেন তারেক রহমান

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
‘জনগণ কেন্দ্রে এলেই রুখে দেওয়া যাবে সব ষড়যন্ত্র’: সপরিবারে ভোট দিলেন তারেক রহমান

ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনের প্রার্থী বিএনপির চেয়ারম্যান ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের দিনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করলেন; গুলশানে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী।

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান এবং ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর গুলশান মডেল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে তিনি ভোট প্রদান করেন। ভোটদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।

ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জনশক্তির ওপর গুরুত্বারোপ

ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে তারেক রহমান ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই একটি দিন—অর্থাৎ তাদের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের দিনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। আজ তারা সেই অধিকার ফেরত পেয়েছেন।” নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা রুখতে জনগণের উপস্থিতিকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মানুষ যদি ভয়ভীতি উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে যেকোনো ধরনের গভীর ষড়যন্ত্র (Political Conspiracy) রুখে দেওয়া সম্ভব।”

নির্বাচনের আগের রাতে সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বুধবার রাতে যেসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তবে জনগণের রায় সব প্রতিকূলতাকে ছাপিয়ে যাবে।”

আইন-শৃঙ্খলা ও ‘জব ক্রিয়েশন’-এ বিশেষ নজর

নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করে তারেক রহমান তার দলের অগ্রাধিকারের কথা জানান। তিনি বলেন, “যদি জনগণ আমাদের বিজয়ী করে, তবে আমাদের সরকারের প্রথম ও প্রধান কাজ হবে দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির (Security Infrastructure) আমূল উন্নয়ন করা। একটি নিরাপদ রাষ্ট্রই টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত।” এছাড়া অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান বা ‘Job Creation’-এর ওপর তার দল বিশেষ ‘Policy Making’ করবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

সপরিবারে ভোট ও ভিভিআইপি নিরাপত্তা

এদিন তারেক রহমানের সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। একই কেন্দ্রে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূসেরও ভোট দেওয়ার কথা রয়েছে। ফলে কেন্দ্রটিকে কেন্দ্র করে অভূতপূর্ব নিরাপত্তা বলয় (Security Protocol) গড়ে তোলা হয়েছে। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, র‍্যাব এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কড়া নজরদারিতে পুরো এলাকা একটি দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত হয়েছে।

নির্বাচনী উৎসব ও সময়সূচি

সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) নির্দেশনা অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। ডিজিটাল ডিসকোর্স এবং স্বচ্ছ ভোটগ্রহণের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এই নির্বাচন একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তারেক রহমানের এই ভোট প্রদান এবং তার পরবর্তী বক্তব্য নির্বাচনী মাঠের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রাণসঞ্চার করেছে। এখন দেখার বিষয়, বিকেলের চূড়ান্ত পরিসংখ্যানে জনগণের রায়ের প্রতিফলন কতটা জোরালো হয়।