ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় এবং দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক পর বাংলাদেশে পুরুষ প্রধানমন্ত্রীর আগমনে বিশ্বমঞ্চে বইছে অভিনন্দনের জোয়ার। বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে দুই প্রভাবশালী রাষ্ট্র—যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত। বিশেষ করে বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন 'Diplomatic Chapter' শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন বিশ্বনেতারা।
ওয়াশিংটনের বার্তা: অভিন্ন লক্ষ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব
নির্বাচনী ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পরপরই বিজয়ী দল বিএনপি এবং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই ঐতিহাসিক জয়কে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা হিসেবে অভিহিত করেন।
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন লেখেন, "সফল নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন এবং ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে শুভেচ্ছা।" তিনি আরও যোগ করেন, "উভয় দেশের সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে 'Strategic Partnership' ও অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে আমরা আপনাদের সঙ্গে কাজ করার গভীর প্রত্যাশা করছি।"
একই সঙ্গে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানিয়ে তারেক রহমানের আগামীর নেতৃত্বের প্রতি শুভকামনা জানানো হয়। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের 'Bilateral Relations' বা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক ইতিবাচক সূচনা।
দিল্লির শুভেচ্ছা: 'অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ' গড়ার প্রত্যয়
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বাংলাদেশের নির্বাচনে বড় জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারেক রহমানকে পাঠানো এক বিশেষ বার্তায় মোদি এই জয়কে জনগণের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
নরেন্দ্র মোদি তার এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, "বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপিকে এক বড় বিজয়ে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য আমি তারেক রহমানকে আমার উষ্ণ অভিনন্দন জানাই। এই জয় আপনার নেতৃত্বের ওপর বাংলাদেশের জনগণের আস্থার প্রতিফলন।"
ভারত সবসময়ই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে 'Regional Stability' বা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আগ্রহী। মোদি তার বার্তায় আরও স্পষ্ট করেন যে, ভারত একটি "গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন" অব্যাহত রাখবে। দুই দেশের বহুমুখী সম্পর্ক জোরদার করতে এবং সাধারণ উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো এগিয়ে নিতে তারেক রহমানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
আঞ্চলিক সংহতি: পাকিস্তানসহ বিশ্বনেতাদের নজর
দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের এই পরিবর্তনকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে প্রতিবেশী অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোও। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আলাদা বার্তায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, নতুন সরকারের অধীনে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
বিশ্লেষণ: বৈশ্বিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের নতুন অবস্থান
দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশে ক্ষমতার যে পালাবদল ঘটল, তাকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বেশ ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করেছে। ওয়াশিংটন ও দিল্লির এই অভিনন্দন বার্তা কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একে দেখা হচ্ছে নতুন সরকারের জন্য একটি 'Global Legitimacy' হিসেবে। অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণ, 'Foreign Investment' আকর্ষণ এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির মতো ক্ষেত্রগুলোতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার বিশ্বশক্তির কতটা সমর্থন পায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
নির্বাচনী উত্তাপ শেষে এখন সময় গঠনমূলক কূটনীতির। বিশ্বনেতাদের এই সমর্থন বাংলাদেশের আগামীর পথচলাকে কতটা মসৃণ করে, তা সময়ই বলে দেবে।