ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াই, মাঠের ভেতরে ও বাইরের চরম উত্তেজনা আর দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মর্যাদার লড়াই—ভারত বনাম পাকিস্তান। টি-২০ বিশ্বকাপের (T20 World Cup) মঞ্চে এই হাই-ভোল্টেজ দ্বৈরথ ঘিরে যখন উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে, ঠিক তখনই কলম্বোর আকাশে ঘনীভূত হচ্ছে কালো মেঘ। দীর্ঘ টালবাহানা আর রাজনৈতিক জটিলতা কাটিয়ে পাকিস্তান দল ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামতে রাজি হলেও, এখন সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রকৃতি। আগামী রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোয় অনুষ্ঠেয় এই ম্যাচে বৃষ্টির 'উচ্চ ঝুঁকি' (High Risk) দেখছেন আবহাওয়াবিদরা।
রাজনৈতিক মেঘ কাটলেও প্রকৃতির মেঘে ঘোর অনিশ্চয়তা
গত ১০ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে এসে নিশ্চিত করে যে, তারা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলবে। কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে এই মেগা লড়াইয়ের জন্য দর্শকরা টিকিট হাতে যখন রোমাঞ্চের অপেক্ষায়, ঠিক তখনই আবহাওয়া পূর্বাভাসে অশনিসংকেত পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রবিবার কলম্বোয় ম্যাচ চলাকালীন সময়ে ভারী বৃষ্টিপাত খেলা পুরোপুরি পণ্ড করে দিতে পারে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও কারিগরি তথ্য
ওয়েদার ফোরকাস্ট (Weather Forecast) বলছে, রবিবার কলম্বোয় দিনের বেলা বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রায় ৯৩ শতাংশ। এর সাথে যোগ হতে পারে বজ্রঝড় (Thunderstorm), যার আশঙ্কা করা হচ্ছে ২৬ শতাংশ। সারাদিনে প্রায় ১২.১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা একটি ক্রিকেট ম্যাচের আউটফিল্ড (Outfield) খেলার অনুপযোগী করে তোলার জন্য যথেষ্ট। যদিও সন্ধ্যার দিকে কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে; পূর্বাভাস অনুযায়ী রাতের দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা কমে ১৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে দিনের বেলায় মাঠ ভেজা থাকলে ম্যাচ শুরু করা আম্পায়ারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
পয়েন্ট টেবিলের সমীকরণ ও সুপার এইটের হাতছানি
গ্রুপ ‘এ’-তে থাকা দুই দলই বর্তমানে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে। সূর্যকুমার যাদবের (Suryakumar Yadav) নেতৃত্বে ভারত তাদের প্রথম দুই ম্যাচেই দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানও জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে অবস্থান করছে। এই ম্যাচে যারা জয়ী হবে, তারা কার্যত এক পা দিয়ে রাখবে সুপার এইট (Super Eight) পর্বে। কিন্তু প্রকৃতি যদি সদয় না হয় এবং ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়, তবে দুই দলকেই ১ পয়েন্ট করে ভাগাভাগি করতে হবে। এতে করে গ্রুপের সমীকরণ জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং নেট রান রেট (Net Run Rate) পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে।
প্রস্তুতি বনাম অনিশ্চয়তা
কলম্বোর এই পিচ সাধারণত স্পিনারদের জন্য সহায়ক হলেও বৃষ্টির কারণে কন্ডিশন দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। পেসাররা বাড়তি সুইং পেতে পারেন, যা ব্যাটারদের জন্য পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে। এখন দেখার বিষয়, ক্রিকেট বিশ্বের এই ‘এল ক্লাসিকো’ বৃষ্টির পেটে যায় নাকি কলম্বোর আকাশ পরিষ্কার হয়ে এক রোমাঞ্চকর লড়াই উপহার দেয়। কোটি ক্রিকেট ভক্তের প্রার্থনা এখন একটাই—আকাশ যেন পরিষ্কার থাকে এবং মাঠের লড়াই যেন অমলিন থাকে।