ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে আসতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অভিনন্দন বার্তা। এই ধারাবাহিকতায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে টেলিফোন করে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। দীর্ঘ ফোনালাপে দুই নেতা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নিজেই তার ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে এক পোস্টের মাধ্যমে এই ফোনালাপের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গণতান্ত্রিক উত্তরণে অভিনন্দন ও উষ্ণ ফোনালাপ
পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফোনালাপটি ছিল অত্যন্ত আন্তরিক ও বন্ধুসুলভ। নির্বাচনে বিএনপির বিশাল বিজয়ে বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানান শেহবাজ শরিফ। তিনি উল্লেখ করেন, এই গণরায় বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক চেতনা ও দীর্ঘলালিত মূল্যবোধেরই প্রতিফলন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, এই জনম্যান্ডেট (Public Mandate) দেশটিতে টেকসই স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনবে।
খালেদা জিয়ার অবদান ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের স্মৃতিচারণ
দুই নেতার এই কথোপকথনে গুরুত্বের সাথে উঠে আসে বিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাম। দক্ষিণ এশীয় রাজনীতিতে এবং পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্কের সেতুবন্ধন রচনায় খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন শেহবাজ শরিফ। দুই দেশের জনগণের মধ্যে সৌহার্দ্য বাড়াতে তার অবদানকে ভূয়সী প্রশংসা করেন উভয় নেতা। একে কেবল একটি রাজনৈতিক আলাপ নয়, বরং দুই দেশের ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়ন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
আঞ্চলিক শান্তি ও কৌশলগত সহযোগিতার নতুন অধ্যায়
ফোনালাপে আঞ্চলিক শান্তি, অগ্রগতি এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি (Geo-politics) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। শেহবাজ শরিফ দুই দেশের সার্বভৌম সমতার (Sovereign Equality) প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা (Bilateral Cooperation) আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। তারেক রহমানও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় এবং বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রসারে একসাথে কাজ করার ইতিবাচক সায় দেন।
ইসলামাবাদ ও ঢাকা সফরের পারস্পরিক আমন্ত্রণ
কূটনৈতিক এই ঘনিষ্ঠতাকে আরও বেগবান করতে তারেক রহমানকে তার সুবিধামতো সময়ে পাকিস্তান সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান শেহবাজ শরিফ। আমন্ত্রণে ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমানও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকা সফরের পাল্টা আমন্ত্রণ জানান। এই পারস্পরিক আমন্ত্রণকে আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ব্যস্ততা (Diplomatic Engagement) বৃদ্ধির একটি শক্তিশালী সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল থেকে অভিনন্দন পাচ্ছেন তারেক রহমান। এর আগে জাতিসংঘও বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ এবং নতুন সরকারকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বাংলাদেশের নতুন সরকারের বৈদেশিক নীতি (Foreign Policy) নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।