দেশের বাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম ফের ঊর্ধ্বমুখী। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (Pure Gold) মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ৯ ফেব্রুয়ারি এক লাফে বড় অঙ্কের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশে জুয়েলারি দোকানগুলোতে নতুন নির্ধারিত এই সর্বোচ্চ দামেই স্বর্ণ বেচাকেনা হচ্ছে।
স্বর্ণের বর্তমান বাজারদর: এক নজরে
বাজুসের সবশেষ সমন্বয় অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের মানভেদে দাম নিচে দেওয়া হলো:
২২ ক্যারেট: ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা (যা আগে ছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা)।
২১ ক্যারেট: ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা।
১৮ ক্যারেট: ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা।
সনাতন পদ্ধতি: ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা।
সবশেষ ঘোষণায় ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে পিওর গোল্ডের সরবরাহ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নতুন দর (Market Value) নির্ধারণ করা হয়েছে।
অতিরিক্ত খরচ ও ভ্যাট কাঠামো
ক্রেতাদের মনে রাখা প্রয়োজন, বাজুস নির্ধারিত এই মূল্যের সঙ্গে আরও কিছু বাড়তি খরচ যুক্ত হবে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট (VAT) প্রদান করা বাধ্যতামূলক। এর পাশাপাশি গহনার অলঙ্করণ বা নকশাভেদে ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি (Labor Charge) যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন বা কারুকার্যের ওপর ভিত্তি করে এই মজুরি কম-বেশি হতে পারে।
স্বর্ণের দামের ঐতিহাসিক ট্রেন্ড: ২০২৫ বনাম ২০২৬
চলতি ২০২৬ সালের শুরু থেকেই স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত স্বর্ণের দাম মোট ২৮ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং মাত্র ১০ বার কমানো হয়েছে।
অন্যদিকে, বিদায়ী ২০২৫ সালটি ছিল স্বর্ণের বাজারের জন্য এক অস্থির সময়। সে বছর মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। যার মধ্যে রেকর্ড ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মানের পরিবর্তনের কারণেই স্বর্ণের বাজারে এমন অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা দিচ্ছে।
অপরিবর্তিত রুপার বাজার
স্বর্ণের দাম আকাশচুম্বী হলেও রুপার বাজারে বর্তমানে কিছুটা স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। বাজুসের তথ্যমতে, বর্তমানে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারে মানভেদে রুপার দাম নিম্নরূপ:
২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা।
২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ৬ হাজার ৬৫ টাকা।
১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা।
সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ৩ হাজার ৯০৭ টাকা।
২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত রুপার দাম ১৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০ বার বেড়েছে এবং ৭ বার কমেছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম ১৩ বার সমন্বয়ের বিপরীতে ১০ বারই দাম বেড়েছিল।
বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্কবার্তা
বৈশ্বিক টেক জায়ান্ট ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বজায় থাকলে স্বর্ণের এই উর্ধ্বগতি আগামীতেও অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে সোনা বা রুপায় বিনিয়োগ (Gold Investment) করার ক্ষেত্রে সাধারণ ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের বাজারের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।