• ব্যবসায়
  • মার্কিন শুল্ক প্রাচীরে বড় ধাক্কা: ২ শতাংশ বাণিজ্য ক্ষতির আশঙ্কায় বাংলাদেশসহ ৪৪ রাষ্ট্র

মার্কিন শুল্ক প্রাচীরে বড় ধাক্কা: ২ শতাংশ বাণিজ্য ক্ষতির আশঙ্কায় বাংলাদেশসহ ৪৪ রাষ্ট্র

ব্যবসায় ১ মিনিট পড়া
মার্কিন শুল্ক প্রাচীরে বড় ধাক্কা: ২ শতাংশ বাণিজ্য ক্ষতির আশঙ্কায় বাংলাদেশসহ ৪৪ রাষ্ট্র

নতুন মার্কিন বাণিজ্য নীতি ও ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’-এর জাঁতাকলে স্বল্পোন্নত দেশগুলো; অশনি সংকেত দিচ্ছে জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদন।

বিশ্বজুড়ে বদলে যাচ্ছে বাণিজ্যের গতিপথ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তিত বাণিজ্য নীতি, ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ (Reciprocal Tariff) আরোপের প্রবণতা এবং জটিলতর ভূ-রাজনৈতিক (Geopolitical) সমীকরণের ফলে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলো। ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক শুল্ক নীতি এবং বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ফলে বিশ্ব বাণিজ্যে পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি চিত্রে নাটকীয় পরিবর্তন আসছে। এই অসম প্রতিযোগিতার জাঁতাকলে পড়ে বাজার হারানোর শঙ্কায় রয়েছে বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলো (LDC)।

বদলে যাওয়া বিশ্ববাণিজ্য ও মার্কিন নীতি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্যিক কৌশলের প্রভাবে অন্তত ২ শতাংশ বাণিজ্য ক্ষতির সম্মুখীন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশসহ জাতিসংঘের তালিকাভুক্ত ৪৪টি স্বল্পোন্নত দেশ। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন এই সংরক্ষণবাদী নীতি মূলত বিশ্ববাজারের সরবরাহ চেইনকে (Supply Chain) নতুন করে বিন্যস্ত করছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের চেনা বাজারগুলোতে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ছে।

ক্ষতির মুখে ৪৪টি রাষ্ট্র: বিপাকে এশিয়া ও আফ্রিকা জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই বাণিজ্যিক ক্ষতির শিকার হওয়া রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে রয়েছে এশিয়ার ৮টি দেশ, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৩টি দেশ এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের হাইতি। তবে সবচেয়ে বড় আঘাত আসার সম্ভাবনা রয়েছে আফ্রিকার ৩২টি স্বল্পোন্নত দেশে। বাংলাদেশ এই তালিকায় এশীয় অঞ্চলের অন্যতম বড় রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। শুল্ক সুবিধার তারতম্য ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন এই দেশগুলোর রপ্তানি আয় বা ‘Export Earnings’-এ নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

উন্নত বনাম স্বল্পোন্নত: বাড়ছে বৈষম্য জাতিসংঘের প্রতিবেদনে একটি উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। দেখা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বর্তমান নীতিমালায় উন্নত দেশগুলো পণ্যভেদে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর তুলনায় বেশি সুবিধা ভোগ করছে। এর ফলে বিশ্ব বাণিজ্যে এক ধরনের কাঠামোগত বৈষম্য বা ‘Trade Inequality’ তৈরি হচ্ছে। উন্নত দেশগুলোর ওপর শুল্কের প্রভাব তুলনামূলক কম হওয়ায় তাদের সক্ষমতা বাড়ছে, অন্যদিকে স্বল্পোন্নত দেশগুলো অসম প্রতিযোগিতার (Unfair Competition) মুখে পড়ে পিছিয়ে পড়ছে। এটি বিশ্বব্যাপী পণ্য উৎপাদন ব্যবস্থাকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের প্রেসক্রিপশন এই কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (UNCTAD)। সংস্থার মতে, বাংলাদেশসহ এই দেশগুলোকে এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদী কৌশল গ্রহণ করতে হবে: ১. কাঁচামাল রপ্তানি বন্ধ: শুধুমাত্র কাঁচামাল রপ্তানি না করে দেশে ‘Value Addition’ বা পণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ বাড়িয়ে নিজস্ব উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। ২. বাজার বহুমুখীকরণ: নির্দিষ্ট একটি বা দুটি বাজারের (যেমন শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপ) ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। ৩. পণ্যে বৈচিত্র্য: আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ বা ‘Market Analysis’ করে পণ্যের ধরনে বৈচিত্র্য (Product Diversification) আনতে হবে। ৪. কারিগরি দক্ষতা: আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমিয়ে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

বাণিজ্যিক এই ডামাডোলের মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের প্রধান স্তম্ভ তৈরি পোশাক শিল্পের (RMG Sector) ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে ভাববার সময় এসেছে। বৈশ্বিক এই শুল্ক যুদ্ধের আবহে নিজেদের অবস্থান সুসংহত রাখতে হলে কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কাঠামোর আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি।

Tags: global economy bangladesh trade trade policy us tariff export loss ldc countries unctad report market analysis geopolitical impact product diversification