আধুনিক নগরজীবনের ব্যস্ততায় ‘Mental Health’ বা মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি অনেক সময়ই আমাদের অবহেলার তালিকায় থাকে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্যারিয়ারের ইঁদুরদৌড় বা ‘Rat Race’, সোশ্যাল মিডিয়ার কৃত্রিম জীবনের সাথে নিজের তুলনা এবং একাকিত্ব এক ধরণের নীরব মহামারি তৈরি করছে। মনোবিদদের মতে, এই মানসিক চাপ বা ‘Stress’ থেকে মুক্তি পেতে কেবল চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় (Lifestyle) কিছু ছোট কিন্তু কার্যকর পরিবর্তন আনা জরুরি। নিজেকে বিষণ্ণতার অন্ধকার থেকে বের করে আনতে এবং মস্তিষ্কে ‘Happy Hormone’-এর নিঃসরণ বাড়াতে নিচের ৫টি অভ্যাস জাদুর মতো কাজ করতে পারে।
১. নিয়মিত শরীরচর্চা ও এন্ডোরফিন নিঃসরণ
মানসিক প্রশান্তির জন্য শরীরচর্চার কোনো বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট হালকা ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম করলে মস্তিষ্কে ‘Endorphin’ ও ‘Dopamine’-এর মতো হরমোন নিঃসৃত হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে মন ভালো করে দেয়। আমরা শরীর ফিট রাখতে যেমন ‘Gym’ বা শরীরচর্চা করি, মানসিক দৃঢ়তা বাড়াতেও ঠিক তেমনি নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা প্রয়োজন।
২. স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ ও ডিজিটাল ডিটক্স
স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং ‘Social Media Comparison’ বর্তমান সময়ের মানসিক অবসাদের অন্যতম প্রধান কারণ। অন্যের সাফল্য বা রঙিন জীবন দেখে নিজের জীবনের প্রতি অতৃপ্তি আসাটা এখন স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই দিনে অন্তত কয়েক ঘণ্টা ‘Digital Detox’ বা স্মার্টফোন থেকে দূরে থাকার অভ্যাস করুন। ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে ‘Screen Time’ কমিয়ে বই পড়া বা পরিবারের সাথে সময় কাটালে তা ‘Sleep Quality’ উন্নত করে এবং মানসিক অস্থিরতা কমায়।
৩. পর্যাপ্ত ঘুম ও কর্টিসল লেভেল নিয়ন্ত্রণ
শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার যোগসূত্র হলো গভীর ঘুম। অনিদ্রা বা ঘুমের অভাব শরীরে ‘Cortisol’ নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা মানুষকে খিটখিটে ও অবসাদগ্রস্ত করে তোলে। প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম মস্তিষ্ককে রিচার্জ করতে সাহায্য করে এবং পরদিনের কাজের জন্য নতুন উদ্যম জোগায়। মানসিক স্বাস্থ্যের ‘Recovery’-র জন্য পর্যাপ্ত ঘুম একটি মহৌষধ।
৪. সৃজনশীল শখের চর্চা
একঘেয়ে রুটিন থেকে মুক্তি পেতে সৃজনশীল কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। ছবি আঁকা, রান্না করা, বাগান করা কিংবা কোনো বাদ্যযন্ত্র শেখার মতো ‘Creative Hobby’ মানুষের একাকিত্ব দূর করে। সৃজনশীল কাজের সময় মানুষ তার দুশ্চিন্তা ভুলে বর্তমানে মনোনিবেশ করতে পারে, যা এক ধরণের ‘Mindfulness’ বা ধ্যানের কাজ করে।
৫. অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ ও জার্নালিং
অনেক সময় মনের ভেতর চেপে রাখা ক্ষোভ বা দুঃখ বড় ধরণের ‘Depression’-এর জন্ম দেয়। তাই প্রিয়জনের সঙ্গে মন খুলে কথা বলা বা নিজের অনুভূতিগুলো শেয়ার করা মানসিক চাপ অনেকটা কমিয়ে দেয়। এছাড়া নিয়মিত ‘Journaling’ বা ডায়েরি লেখার অভ্যাস নিজের আবেগ ও চিন্তাকে গুছিয়ে নিতে সাহায্য করে। নিজের অনুভূতিগুলো কাগজে লিখে ফেললে মানসিক বোঝা অনেকটা হালকা হয় বলে মনে করেন গবেষকরা।
মনে রাখবেন, শরীর খারাপ হলে আমরা যেমন গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা করি, মনের অসুস্থতাকেও ঠিক একইভাবে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। জীবনযাত্রার এই সামান্য পরিবর্তনগুলোই পারে আপনাকে এক সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনের দিকে এগিয়ে নিতে।