ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্ক ও পারমাণবিক উত্তেজনা নিরসনে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের এই আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
খামেনির সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গেই আলোচনায় বসতে দ্বিধাবোধ করেন না। রুবিওর মতে, দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যম খোলা থাকা জরুরি। তিনি বলেন, "যদি আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি আগামীকালই বৈঠকের প্রস্তাব দেন, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সঙ্গে দেখা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।" এটি মূলত ইরানের সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক পথ তৈরির একটি ইঙ্গিত।
ওমানে প্রথম দফার বৈঠক সম্পন্ন দুই দেশের মধ্যে বরফ গলতে শুরু করার আভাস পাওয়া গেছে চলতি মাসের শুরুতেই। গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানের রাজধানী মাসকটে ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম দফার পারমাণবিক আলোচনা সফলভাবে শেষ হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, আলোচনায় শুধুমাত্র পারমাণবিক ইস্যুগুলো প্রাধান্য পেয়েছে এবং সেখানে কোনো পক্ষ থেকেই হুমকি বা চাপ দেওয়া হয়নি।
জেনেভায় দ্বিতীয় দফার আলোচনা রয়টার্সের তথ্যমতে, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই আলোচনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছেন যে, যদি এই আলোচনা বা চুক্তির প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, তবে ইরানের জন্য ভবিষ্যতে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
চুক্তির লক্ষ্যে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প একদিকে যেমন আলোচনার জন্য দ্বার উন্মুক্ত রেখেছেন, অন্যদিকে ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখার কৌশলও গ্রহণ করেছেন। একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী পারমাণবিক চুক্তির মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরানোই এখন ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য। তবে খামেনি এই সরাসরি আলোচনার প্রস্তাবে সাড়া দেবেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।