ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বড় জয়ের পর বিএনপি ও তার মিত্রদের শুভেচ্ছা জোয়ারে ভাসছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনের শীর্ষ নেতারা মনে করেন, জনগণের রায় প্রতিফলিত হওয়ার মাধ্যমে দেশে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।
বিজয়কে আমানত হিসেবে দেখার আহ্বান বিবৃতিতে হেফাজত আমির ও মহাসচিব বলেন, রাষ্ট্র ক্ষমতা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশাল নেয়ামত এবং কঠিন আমানত। এটি কেবল সম্মানের বিষয় নয় বরং জনগণের হক আদায়ের এক গুরুদায়িত্ব। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিতব্য নতুন সরকার সততা ও দক্ষতার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে এবং দেশে ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
নতুন সরকারের কাছে হেফাজতের ৫ দাবি বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা নতুন সরকারের কাছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা ও দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো: ১. মসজিদ-মাদ্রাসা ও আলেম-ওলামাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ২. জনগণের ধর্মীয় ও মানবাধিকার সংরক্ষণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। ৩. দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে জনদুর্ভোগ লাঘব। ৪. ইসলামি শিক্ষা, সভ্যতা ও তাহজিব-তামাদ্দুন সংরক্ষণে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ। ৫. ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার শিকড় উৎপাটন এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা।
সহিংসতা রোধে কঠোর হওয়ার তাগিদ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ও নৈরাজ্যের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিতে বলা হয়, সহিংসতা কোনো জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না। তারা সরকারকে সন্ত্রাস দমনে কঠোর ও ন্যায়ভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।
নাগরিকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ বিবৃতিতে তরুণ প্রজন্ম ও নাগরিক সমাজকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। উসকানিমূলক স্ট্যাটাস, মিথ্যা তথ্য ছড়ানো এবং প্রতিপক্ষকে ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে বিরত থেকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য হেফাজত নেতারা অনুরোধ জানিয়েছেন।