• আন্তর্জাতিক
  • ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু, সামরিক প্রস্তুতির ঘোষণা

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু, সামরিক প্রস্তুতির ঘোষণা

পারমাণবিক অস্ত্র রোধে সর্বোচ্চ চাপের নীতি গ্রহণ; জেনেভা বৈঠকের আগে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য।

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু, সামরিক প্রস্তুতির ঘোষণা

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তারা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে ‘ম্যাক্সিমাম প্রেসার’ বা সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতিতে একমত হয়েছেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ইরানকে চাপে রাখার কৌশলও গ্রহণ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। দুই নেতাই একমত হয়েছেন যে, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হতে দেওয়া যাবে না।

ম্যাক্সিমাম প্রেসার ও কৌশলগত মতভেদ ট্রাম্প প্রশাসন তাদের আগের মেয়াদের মতো আবারও ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে ‘ম্যাক্সিমাম প্রেসার’ নীতি জোরদার করতে যাচ্ছে। তবে এই চাপ প্রয়োগের পদ্ধতি নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে কিছুটা সূক্ষ্ম মতভেদ লক্ষ্য করা গেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেছেন, ইরান কখনোই কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি বা সীমাবদ্ধতা মেনে চলবে না। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছুটা নমনীয় বা আশাবাদী সুর বজায় রেখে বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান আসে কি না তা একবার চেষ্টা করে দেখা উচিত।

জেনেভা বৈঠক ও ইরানের অবস্থান শিগগিরই জেনেভাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে পারমাণবিক ইস্যুতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে ওমানের মাসকটে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছিল, যা উভয় পক্ষই 'ইতিবাচক' বলে বর্ণনা করেছে। তবে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী। নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিষয়ে কোনো প্রকার সীমাবদ্ধতা বা শর্ত মানতে তারা রাজি নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি ও রণতরী মোতায়েন অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি ইরানকে সামরিকভাবে মোকাবিলা করার প্রস্তুতিও গুছিয়ে রাখছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগন জানিয়েছে, প্রয়োজন পড়লে ইরানের বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহের একটি সংক্ষিপ্ত ও জোরালো সামরিক অভিযান চালানোর সক্ষমতা অর্জনে কাজ করছে তারা। এরই অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফর্ড’ স্ট্রাইক গ্রুপকে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর সঙ্গে যুক্ত করে মোতায়েন করা হয়েছে।

আঞ্চলিক ঝুঁকি ও ভবিষ্যৎ বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে পারমাণবিক আলোচনা এবং অন্যদিকে সামরিক মহড়া ও অর্থনৈতিক অবরোধ—এই দ্বিমুখী নীতি ইরানকে হয়তো আলোচনার টেবিলে কিছুটা ছাড় দিতে বাধ্য করতে পারে। তবে এটি মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারে এবং বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Tags: us military middle east tension netanyahu trump nuclear deal iran-us relations economic-sanctions