হোয়াটসঅ্যাপে মৃত্যুপরোয়ানা ও আতঙ্কের প্রহর
বলিউডের পর্দায় যাঁকে অদম্য সাহস আর দাপুটে চরিত্রে দেখে অভ্যস্ত দর্শক, সেই রণবীর সিং (Ranveer Singh) এবার বাস্তব জীবনেই এক চরম উৎকণ্ঠার মুখোমুখি হয়েছেন। রূপালি পর্দার গ্ল্যামার ছাপিয়ে এই তারকা এখন লড়ছেন নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। মুম্বাই পুলিশের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি রণবীরের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একটি অজ্ঞাত পরিচয় থেকে ‘ভয়েস নোট’ পাঠানো হয়েছে। সেখানে অত্যন্ত অশালীন ভাষায় তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি এক বিশাল অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই পুরো বলিউডে এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
তদন্তে মুম্বাই পুলিশ ও লরেন্স বিষ্ণোই ছায়া
বলিউড পাড়ায় গুঞ্জন ছড়িয়েছে, এই হুমকির পেছনে কুখ্যাত আন্ডারওয়ার্ল্ড গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের হাত থাকতে পারে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সালমান খান, রোহিত শেট্টি এবং কপিল শর্মার মতো প্রথম সারির তারকাদের ধারাবাহিকভাবে নিশানায় রেখেছে এই চক্র। এবার কি সেই তালিকায় রণবীর সিংয়ের নামও অন্তর্ভুক্ত হলো? মুম্বাই পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাঁরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং AI প্রযুক্তির সহায়তায় হুমকিদাতার কণ্ঠস্বর শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই কোনো সুনির্দিষ্ট নাম বা তথ্য খোলসা করতে নারাজ প্রশাসন।
নিরাপত্তার দুর্গ ও প্রতিবেশীদের অসন্তোষ
হুমকি পাওয়ার পরপরই রণবীর সিং ও দীপিকা পাড়ুকোন তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি। পুলিশের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করে তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে ছয়জন উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ‘আর্মড বডিগার্ড’ (Armed Bodyguards) নিয়োগ করেছেন। এই প্রহরীরা এখন ২৪ ঘণ্টা তাঁদের ঘিরে রাখছেন। কিন্তু এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে রণবীর-দীপিকার আবাসনের অন্য বাসিন্দাদের মধ্যে।
আবাসনের ‘ম্যানেজিং কমিটি’র অভিযোগ, কোনো আগাম অনুমতি ছাড়াই এই সশস্ত্র দেহরক্ষীরা ভবনের লবি, জিম এবং বিশেষ করে শিশুদের খেলার জায়গায় প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘোরাঘুরি করছেন। এতে সাধারণ বাসিন্দা ও শিশুদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আবাসন কর্তৃপক্ষ পুলিশের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে, যেখানে রণবীরের এই অতি-নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।
‘ধুরন্ধর’ চরিত্রের জেরে কি এই বিপত্তি?
বিনোদন জগতের একাংশের ধারণা, রণবীরের সাম্প্রতিক মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘ধুরন্ধর’-এ তাঁর রাজনৈতিক এবং অপরাধ দমনমূলক চরিত্রটিই হয়তো কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে ক্ষুব্ধ করেছে। অভিনেতা হিসেবে তাঁর Market Value এবং ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তাও হয়তো এই ‘এক্সটরশন’ বা তোলাবাজির চেষ্টার একটি বড় কারণ। রণবীর সিং ও দীপিকা পাড়ুকোনের বিলাসবহুল বাসভবনটি এখন অনেকটা দুর্গের মতো কড়া পাহারায় থাকলেও, অদৃশ্য এই আতঙ্ক থেকে কবে মুক্তি মিলবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। ভক্তরা তাঁদের প্রিয় তারকার দ্রুত সুরক্ষার প্রার্থনা করছেন এবং পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।