ক্রিকেট মাঠে হার-জিত খেলারই অংশ, কিন্তু চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স কেবল হার নয়, বরং এক চরম ‘অসহায় আত্মসমর্পণ’ হিসেবেই দেখছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। কলম্বোয় টি-২০ বিশ্বকাপের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে ভারতের ১৭৫ রানের জবাবে মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে গেছে পাকিস্তান। ৬১ রানের এই বিশাল হারের পর সমালোচনার ঝড়ে কাঁপছে পাকিস্তান ক্রিকেট। এবার সেই আগুনেই ঘি ঢাললেন খোদ পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার শাহিদ আফ্রিদি। দলের ব্যর্থতায় এতটাই ক্ষুব্ধ তিনি যে, বাদ দেওয়ার তালিকায় রেখেছেন নিজের মেয়ের জামাই শাহিন শাহ আফ্রিদি ও বর্তমানের পোস্টার বয় বাবর আজমকেও।
ভারত-পাকিস্তান লড়াই এখন একপেশে আধিপত্য
একসময় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই ছিল সমানে-সমান টক্কর। কিন্তু বর্তমান চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। পাকিস্তানের ব্যাটিং ও বোলিং—উভয় বিভাগেই ভারতের চরম আধিপত্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। গত ম্যাচে সালমান আলী আগার দল পাত্তাই পায়নি ভারতীয় বোলিং আক্রমণের সামনে। পাকিস্তানের পুরো দল ১১৪ রানে অলআউট হওয়াকে পাকিস্তানি সমর্থকদের জন্য চরম লজ্জাজনক হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। এই পরাজয়ের পর দলের ‘সিনিয়র প্লেয়ারদের’ (Senior Players) নিবেদন ও ফর্ম নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।
স্বজনপ্রীতি নয়, পারফরম্যান্সই শেষ কথা
শাহিদ আফ্রিদি সবসময়ই সোজাসাপ্টা কথা বলার জন্য পরিচিত। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। টি-২০ বিশ্বকাপের এই বিপর্যয়ের পর তিনি সরব হয়েছেন দলের খোলনলচে বদলে ফেলতে। মজার ব্যাপার হলো, এই দলে তার মেয়ের জামাই শাহিন আফ্রিদিও খেলছেন। ভারতের বিপক্ষে শাহিন ২ ওভার বল করে ৩১ রান দিয়ে মাত্র ১টি উইকেট শিকার করেন, আর ব্যাট হাতে করেন ২৩ রান। এই সাধারণ মানের পারফরম্যান্সে জামাইয়ের ওপরও বিন্দুমাত্র সন্তুষ্ট নন শ্বশুর আফ্রিদি। শাহিনের পাশাপাশি বাবর আজম (৫ রান) এবং শাদাব খানের (১৪ রান) ব্যর্থতা তাকে সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছে।
তরুণদের সুযোগ দেওয়ার কড়া দাওয়াই
পাকিস্তানের একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘সামা টিভি’-কে (Samaa TV) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শাহিদ আফ্রিদি তার ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, “সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা যদি আমার হাতে থাকতো, তবে আমি শাহিনকে বসিয়ে দিতাম, বাবরকেও বিশ্রাম দিতাম এবং শাদাবকেও দল থেকে বাদ দিতাম। এদের বদলে আমি একদম নতুন ও তরুণ ক্রিকেটারদের খেলানোর ঝুঁকি নিতাম। অন্তত নামিবিয়ার মতো দলের বিপক্ষে আমি তরুণদের ওপরই ভরসা রাখতাম এবং তাদের আত্মবিশ্বাস দিতাম।”
আফ্রিদির যুক্তি হলো, বছরের পর বছর ধরে এই ‘সিনিয়র’ খেলোয়াড়রা পর্যাপ্ত সুযোগ পেয়ে আসছেন। কিন্তু বড় ম্যাচে বা গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে তারা দলের জন্য ‘ইমপ্যাক্ট’ (Impact) তৈরি করতে পারছেন না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি সিনিয়ররা বারবার সুযোগ পেয়েও পারফর্ম না করতে পারে, তবে আমরা ‘বেঞ্চ’ (Bench) গরম করা জুনিয়রদের সুযোগ দেবো না কেন? তাদের সুযোগ দিলে অন্তত ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন দল তৈরি হতো।”
সুপার এইটের সমীকরণ ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
প্রথম ম্যাচেই ভারতের কাছে এমন শোচনীয় হারের পর পাকিস্তানের ‘সুপার এইট’ (Super Eight) সমীকরণ এখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। শাহিদ আফ্রিদির মতো কিংবদন্তির এমন বিস্ফোরক মন্তব্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। ক্রিকেট প্রেমীরা এখন তাকিয়ে আছেন পরবর্তী ম্যাচগুলোতে পিসিবি কোনো সাহসী পদক্ষেপ নেয় কি না, নাকি পুরনোদের ওপরই ভরসা রেখে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যায়।