রাজনৈতিক শিষ্টাচারের এক নতুন দিগন্ত
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক ও বিপুল বিজয়ের পর রাজপথের উত্তাপ ছাপিয়ে এখন আলোচনায় দেশের নতুন ‘পলিটিক্যাল কালচার’ বা রাজনৈতিক সংস্কৃতি। বিশেষ করে, দীর্ঘ দেড় দশকের গুমোট ও কটুবাচক রাজনৈতিক পরিবেশের অবসান ঘটিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সাম্প্রতিক আচরণ ও শিষ্টাচার নাগরিক সমাজে এক পজিটিভ ইমপ্যাক্ট তৈরি করেছে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শুরু থেকেই অত্যন্ত সরব এবং প্রভাবশালী নির্মাতা আশফাক নিপুন এই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাঁর মতে, তারেক রহমানের এই ‘রাজনৈতিক শিষ্টাচার’ অনেকের কাছেই এখন অপ্রত্যাশিত এবং অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে।
‘দেড় দশকের গ্লানি মুছে অলীক এক বাস্তবতা’
আশফাক নিপুন তাঁর সাম্প্রতিক এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে দেশের গত ১৫ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে বর্তমানের তুলনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘এমন এক কটুবাচক শাসকের পাল্লায় গত দেড় দশক পড়েছিলাম যে নির্বাচনে বিপুল বিজয়ী জনাব তারেক রহমানের রাজনৈতিক শিষ্টাচার অলীক অলীক লাগে।’ নিপুনের এই মন্তব্যটি মূলত বিগত ‘Authoritarian Regime’-এর সময়কার তিক্ত ভাষা ও প্রতিহিংসার রাজনীতির বিপরীতে এক ধরণের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ। নেটিজেনরা মনে করছেন, বিজয় অর্জনের পর প্রতিহিংসা না দেখিয়ে বরং সৌজন্য বজায় রাখা একজন জাতীয় নেতার পরিপক্বতারই পরিচয়।
বিজয়ী ও পরাজিতদের মধ্যে অভূতপূর্ব সৌহার্দ্য
এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক ছিল বিজয়ীদের পরাজিতদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন। আশফাক নিপুন আশাবাদ ব্যক্ত করে লিখেছেন, ‘আশা করি চেয়ার তাঁর এই শিষ্টাচার বা ‘Political Etiquette’-এ ভবিষ্যতে কোনো প্রভাব ফেলবে না; এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক সব ক্ষেত্রেই এই শিষ্টাচার ফিরে আসবে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই নির্বাচনের পর উভয় জোটেরই বিজয়ীদের পরাজিতদের সঙ্গে সৌহার্দ্য বিনিময়ের ঘটনাটি ছিল দেখার মতো। বিশেষ করে, গতকাল বিরোধী দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতার বাসভবনে তারেক রহমানের সশরীর উপস্থিত হওয়া এবং কুশল বিনিময় করার ঘটনাটি দেশের রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করেছে। নিপুনের এক অনুরাগী মন্তব্যের ঘরে লিখেছেন, “রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এমন ইতিবাচক বার্তা আমরা বহু বছর দেখিনি।”
তারুণ্যের ভোট ও নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন
আশফাক নিপুন কেবল একজন নির্মাতা নন, বরং সামাজিক পরিবর্তনের একজন অগ্রপথিকও বটে। এবারের নির্বাচনের দিন ভিডিও বার্তায় তিনি তরুণ প্রজন্মকে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট, নতুন বাংলাদেশের পক্ষে হোক।’ নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের পর তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন যে, ভোটারদের উৎসাহ এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা তাকে মুগ্ধ করেছে।
নিপুন বিশ্বাস করেন, একটি দেশের চলচ্চিত্র বা শিল্পমাধ্যম যেমন সমাজের দর্পণ, ঠিক তেমনি রাজনৈতিক নেতাদের শিষ্টাচারই নির্ধারণ করে আগামীর বাংলাদেশের গতিপথ। ক্ষমতার মসনদে বসেও এই মানবিক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো তারেক রহমান এবং তাঁর দল ধরে রাখতে পারবে কি না—সেদিকেই এখন সজাগ দৃষ্টি রাখছেন সচেতন নাগরিক ও বিশ্লেষকরা।