গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ‘হাই-ভোল্টেজ’ দ্বৈরথে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান। তবে মাঠের লড়াইয়ে উত্তেজনার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। ভারতের দাপুটে ব্যাটিং ও বোলিংয়ের সামনে কার্যত খাবি খেয়েছে পাকিস্তান। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে ৬১ রানের এই বড় ব্যবধানে হারটি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় জয়। আর দলের এমন ‘নিস্তেজ আত্মসমর্পণ’ নিতে পারেননি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB)-এর চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই ক্ষোভে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন তিনি।
আকাঙ্ক্ষা বনাম পারফরম্যান্সের আকাশ-পাতাল ব্যবধান ম্যাচটি শুরু হওয়ার আগে নানা নাটকীয়তা দেখা গিয়েছিল। বাংলাদেশের সমর্থনে এই ম্যাচ বয়কটের ডাক দিয়েছিল পিসিবি। তবে পরবর্তীতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের মধ্যস্থতা এবং পাকিস্তান সরকারের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর কলম্বোতে খেলতে নামে বাবর আজমের দল। কিন্তু মাঠের খেলায় সেই জেদ বা লড়াকু মানসিকতার ছিটেফোঁটাও ছিল না। ভারতের বিশাল সংগৃহীত রানের নিচে চাপা পড়ে পাকিস্তানের ইনিংস কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি।
ফল নিশ্চিত হতেই নাকভির মাঠ ত্যাগ বার্তা সংস্থা পিটিআই-এর একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পাকিস্তান যখন হারের দ্বারপ্রান্তে, তখনই ভিআইপি বক্স ছেড়ে বেরিয়ে যান মহসিন নাকভি। এক অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পরাজয় যখন সময়ের ব্যাপার মাত্র, তখন চেয়ারম্যানের শরীরী ভাষায় চরম অসন্তুষ্টি ফুটে ওঠে। তিনি মাঠ ছাড়ার আগে দলের ম্যানেজার নাভেদ আকরাম চিমাকে তাঁর ক্ষোভের কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এমন ‘আনপ্রফেশনাল’ পারফরম্যান্স কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।
ড্রেসিংরুমে ক্ষোভ ও টিম ম্যানেজমেন্টের কঠোর অবস্থান পরাজয়ের পর পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমের পরিবেশ ছিল থমথমে। প্রধান কোচ মাইক হেসন খেলোয়াড়দের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, দল তাদের সামর্থ্যের সিকিভাগও মাঠে দেখাতে পারেনি। হেসন ও টিম ম্যানেজমেন্টের মতে, খেলোয়াড়দের দায়বদ্ধতার অভাবই এই ভরাডুবির মূল কারণ। এই হারের পর দলের চেইন অব কমান্ডে বড় ধরনের পরিবর্তনের গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
নামিবিয়া ম্যাচে কিউরেটেড পরিবর্তন: বিশ্রামে থাকছেন বাবর-শাহিন? সবচেয়ে বড় চমক আসতে পারে পাকিস্তানের পরবর্তী ম্যাচে। সুপার এইট (Super Eight) নিশ্চিত করার সমীকরণে নামিবিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি পাকিস্তানের জন্য এখন ‘ডু অর ডাই’ সিচুয়েশন। সূত্রের দাবি, দলের মধ্যে কঠোর শৃঙ্খলা ও বার্তা পৌঁছে দিতে বাবর আজম এবং শাহিন শাহ আফ্রিদিকে পরবর্তী ম্যাচে বিশ্রামে রাখা হতে পারে। তাঁদের জায়গায় ফখর জামান এবং নাসিম শাহ অথবা সালমান মির্জাকে একাদশে অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো পরিকল্পনা চলছে।
পাকিস্তান এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডসকে হারালেও ভারতের কাছে এই শোচনীয় পরাজয় তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, পিসিবি চেয়ারম্যানের এই কঠোর অবস্থান এবং একাদশে বড় রদবদল নামিবিয়া ম্যাচে পাকিস্তানের ভাগ্য ফেরাতে পারে কি না।