পাকিস্তানের ক্রিকেট অঙ্গনে বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন সাবেক তারকা অলরাউন্ডার ইমাদ ওয়াসিম। তবে বাইশ গজের পারফরম্যান্স নয়, বরং তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের চরম বিতর্ক এখন টক অফ দ্য টাউন। সানিয়া আশফাকের সঙ্গে দীর্ঘ বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানার কয়েক মাসের মধ্যেই নাইলা রাজাকে বিয়ে করেছেন ৩৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। আর এই দ্বিতীয় বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসতেই ইমাদকে ‘প্রতারক, সংসারভঙ্গকারী ও খুনি’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিস্ফোরক পোস্ট দিয়েছেন তাঁর সাবেক স্ত্রী সানিয়া।
সংসার ভাঙার নেপথ্যে কি প্রতারণা? ২০১৯ সালে ঘটা করে বিয়ে করেছিলেন ইমাদ ও সানিয়া। দীর্ঘ পথচলার পর গত বছরের ডিসেম্বরে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন। তবে সানিয়ার অভিযোগ অনুযায়ী, বিচ্ছেদের অনেক আগে থেকেই ইমাদ অন্য সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। গত জুলাই মাসে যখন সানিয়া তাঁদের তৃতীয় সন্তানের মা হতে চলেছিলেন, ঠিক তখনই লন্ডনে নাইলা রাজার সঙ্গে ইমাদকে প্রথমবার জনসমক্ষে দেখা যায়। সানিয়ার দাবি, তাঁর গর্ভাবস্থায় ইমাদের এই ‘Infidelity’ বা পরকীয়া সম্পর্কের কারণেই তাঁদের সাজানো সংসার তছনছ হয়ে গেছে।
‘খুনি’ ও ‘জোরপূর্বক গর্ভপাত’—ভয়াবহ অভিযোগ গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে একাধিক পোস্টের মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দেন সানিয়া আশফাক। একটি পোস্টে তিনি ইমাদকে সরাসরি ‘খুনি’ হিসেবে অভিহিত করে লেখেন, “২০২৩ সালের ডিসেম্বরে লাহোরে থাকাকালীন সে আমাকে জোরপূর্বক গর্ভপাত (Forced Abortion) করায়। আমার কাছে এর স্পষ্ট ভিডিও প্রমাণ আছে।” সন্তানদের কথা চিন্তা না করে ইমাদ কেবল নিজের সুখের পেছনে ছুটেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। সানিয়ার এই অভিযোগ পাকিস্তানের ক্রিকেট ভক্তদের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে বয়কটের ডাক সানিয়া কেবল ইমাদের ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়েই প্রশ্ন তোলেননি, বরং আসন্ন পাকিস্তান সুপার লিগে (PSL) তাঁকে দলে নেওয়ায় ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে ‘#boycottislamabadunited’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে লেখেন, “একজন খুনি ও প্রতারককে কেন সুযোগ দেওয়া হলো? কোনো অপরাধীর এভাবে রেহাই পাওয়া উচিত নয়।” এই বিতর্কের জেরে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি এবং ইমাদের ক্যারিয়ার বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পাল্টা জবাবে যা বললেন ইমাদ ওয়াসিম সানিয়ার অভিযোগের পর নিশ্চুপ থাকেননি ইমাদ ওয়াসিমও। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি তাঁর প্রথম বিবাহ-পরবর্তী সময়কে জীবনের ‘সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইমাদ বলেন, “একটি ব্যর্থ বিবাহের পর আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম। তবে সেই কঠিন সময়েও আমার সন্তানরা ছিল আমার বড় আশীর্বাদ। তাদের প্রতি আমার ভালোবাসা কখনো কমবে না।”
নিজস্ব সিদ্ধান্তের দায়ভার গ্রহণ করে ইমাদ আরও যোগ করেন, “আমি যা রক্ষা করতে চেয়েছিলাম, তা বাঁচাতে গিয়ে প্রয়োজনে চেয়ে বেশি সময় ধৈর্য ধরেছি। সেই প্রক্রিয়ায় নেওয়া কিছু ভুল সিদ্ধান্তের জন্য আমি অনুতপ্ত। আমার নীরবতার কারণে অনেক নিরপরাধ মানুষ সমালোচিত হয়েছে, যার সম্পূর্ণ দায় আমি নিচ্ছি।” শেষে তিনি আল্লাহর রহমত ও বাবা-মায়ের দোয়ায় নাইলা রাজাকে বিয়ে করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ইমাদ ওয়াসিম পাকিস্তানের হয়ে ৫৫টি ওয়ানডে ও ৭৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। মাঠের ক্রিকেটে তাঁর দক্ষতা নিয়ে সংশয় না থাকলেও, ব্যক্তিগত জীবনের এই ‘Scandal’ তাঁর ভাবমূর্তিকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সানিয়ার তোলা এই গুরুতর অভিযোগের আইনি কোনো প্রভাব পড়ে কি না।