গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম প্রহরেই এক আবেগঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ কর্মসূচি পালন করলেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তিনি তাঁর নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। রাজনৈতিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি এই শ্রদ্ধা নিবেদনকে নতুন সরকারের সংহতি ও নীতিগত আদর্শের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
শ্রদ্ধা ও মোনাজাতে স্মৃতিতর্পণ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়া উদ্যানে বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় তাঁর সঙ্গে মন্ত্রিসভার ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। ‘State Protocol’ মেনে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে এই জিয়ারত সম্পন্ন হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে দেশ ও জাতির এই অবিসংবাদিত নেত্রীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পরবর্তীতে এক বিশেষ মোনাজাতে অংশ নিয়ে মরহুমা নেত্রীর আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। জিয়ারতকালে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপস্থিতিতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সকাল থেকেই ঠাসা কর্মসূচি: স্মৃতিসৌধ থেকে জিয়া উদ্যান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আজ ছিল তারেক রহমানের প্রথম পূর্ণাঙ্গ কর্মদিবস। দিনের শুরুতেই তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখান থেকে ঢাকায় ফিরে সরাসরি চলে যান জিয়া উদ্যানে। জাতীয় বীর ও রাজনৈতিক আইকনদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের এই ধারাবাহিকতাকে নতুন সরকারের ‘Inclusive’ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির বার্তা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সচিবালয়ে প্রথম দিন: 'Cabinet Meeting' ও নীতিনির্ধারণী পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি সচিবালয়ের উদ্দেশে রওনা হন। দুপুর ১টার দিকে তিনি সচিবালয়ে পৌঁছান এবং সেখানে জোহরের নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজ সম্পন্ন করেন। বিকেল ৩টায় তাঁর সভাপতিত্বে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক (Cabinet Meeting) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকেই নতুন সরকারের আগামী ১০০ দিনের অগ্রাধিকারমূলক কর্মপরিকল্পনা বা ‘Priority Agenda’ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
প্রশাসনিক সংস্কারে সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরপরই বিকেল ৪টায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিবদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রশাসনের গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, ‘Good Governance’ বা সুশাসন নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করার ক্ষেত্রে এই সভাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান। তাঁর এই ক্ষমতা গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হলো, যেখানে জনগণের প্রত্যাশা ও প্রশাসনিক সংস্কারই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।