ভারতের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার আগেই টলিউড তথা রাজনীতির আঙিনায় শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। এবার আইনি জটিলতায় জড়ালেন চণ্ডীপুরের তারকা বিধায়ক ও জনপ্রিয় অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী। অভিনেতা-রাজনীতিক শাহিদ ইমামের করা একটি মামলার জেরে কলকাতা হাইকোর্টের কাঠগড়ায় এখন এই ‘টেকো’ খ্যাত নায়ক। দীর্ঘদিনের অনাদায়ী ঋণ এবং সেই সংক্রান্ত ‘হুমকি’র অভিযোগে এখন উত্তাল রাজ্য রাজনীতি।
ব্যক্তিগত সম্পর্ক থেকে আইনি যুদ্ধ মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২১ সালে ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের খাতিরে শাহিদ ইমামের কাছ থেকে ৬৮ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন সোহম চক্রবর্তী। অভিযোগকারীর দাবি, সেই বিপুল অঙ্কের ঋণের মধ্যে মাত্র ২৫ লক্ষ টাকা দীর্ঘ টালবাহানার পর ফেরত দিয়েছেন অভিনেতা। কিন্তু বাকি ৪৩ লক্ষ টাকা দীর্ঘ তিন বছর পেরিয়ে গেলেও পরিশোধ করা হয়নি। শাহিদ ইমামের অভিযোগ, বারবার পাওনা টাকা ফেরত চেয়েও কোনো সুরাহা না হওয়ায় এবং শেষ পর্যন্ত বিষয়টি তিক্ততার পর্যায়ে পৌঁছানোয় তিনি আইনের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছেন।
‘হুমকি’র অভিযোগে চাঞ্চল্য শাহিদ ইমাম কেবল আর্থিক লেনদেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; তিনি সোহমের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে জানিয়েছেন যে, বকেয়া টাকা ফেরত চাইলে তাকে বিভিন্নভাবে ‘হুমকি’ দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, একজন জনপ্রতিনিধি হয়েও সোহম যেভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন, তা অনভিপ্রেত। এই প্রেক্ষাপটেই পাওনা আদায়ের লক্ষে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে মামলা (Legal Case) দায়ের করেছেন। বিষয়টি বর্তমানে বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে।
চলচ্চিত্র নির্মাণ ও আর্থিক জটিলতার সাফাই অন্যদিকে, ঋণের বিষয়টি অস্বীকার করেননি সোহম চক্রবর্তী। তবে পুরো বিষয়টিকে তিনি একটি ভিন্ন আঙ্গিকে তুলে ধরেছেন। সোহমের ভাষ্যমতে, একটি নিজস্ব চলচ্চিত্র নির্মাণের (Film Production) প্রয়োজনে তিনি ওই অর্থ গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু সিনেমাটি মুক্তি পেতে বিলম্ব হওয়া এবং কিছু অভ্যন্তরীণ আর্থিক জটিলতার (Financial Dispute) কারণে সময়মতো পুরো টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। তিনি দাবি করেন, বকেয়া অর্থ মিটিয়ে দেওয়ার সদিচ্ছা তার বরাবরই ছিল এবং তিনি তা নিয়ে আলাপ-আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের পাল্টা দাবি নির্বাচনের ঠিক আগেই কেন এই অভিযোগ? সোহমের দাবি, তার ভাবমূর্তি (Public Image) ক্ষুণ্ণ করতে এবং রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই বিষয়টিকে বড় করে দেখানো হচ্ছে। হুমকির অভিযোগকে পুরোপুরি ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। সোহম জানান, “থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং বিষয়টি আদালতে গড়িয়েছে। আমি আইনের ওপর আস্থাশীল। সত্য দ্রুতই সামনে আসবে।”
নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার আগে এই ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ যে কোনো প্রার্থীর জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। এখন দেখার বিষয়, আদালত এবং আমজনতার দরবারে সোহম চক্রবর্তী এই ‘ঋণখেলাপি’ তকমা ঝেড়ে ফেলতে পারেন কি না।