সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত ও বিতর্কিত নাম আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের মাঝিড়া বন্দর এলাকা থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। বর্তমানে আদালতের আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নাটকীয় অভিযানে গ্রেফতার হিরো আলম
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হিরো আলমের অবস্থানের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি রাখা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে তিনি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তার গাড়ির পিছু নেন। একপর্যায়ে শাজাহানপুরের মাঝিড়া বন্দরের কাছে পৌঁছালে পুলিশ ধাওয়া করে তার গাড়িটি থামায় এবং তাকে গ্রেফতার করে।
গুরুতর অভিযোগে মামলা: বিয়ের প্রলোভন ও গর্ভপাত
হিরো আলমের বিরুদ্ধে মামলার বাদি সাদিয়া রহমান মিথিলা নামক এক নারী। মামলার এজাহার অনুযায়ী, হিরো আলম ওই নারীকে চলচ্চিত্রে নায়িকা বানানোর স্বপ্ন দেখান এবং প্রতারণামূলকভাবে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে হিরো আলম তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন এবং শারীরিক নির্যাতন চালান। শুধু তাই নয়, নির্যাতনের একপর্যায়ে ওই নারীকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করাতেও বাধ্য করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল মিথিলা বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ হিরো আলমের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। যদিও শুরু থেকেই হিরো আলম এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে একে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে দাবি করে আসছেন।
আদালতের পরোয়ানা ও পিবিআই তদন্ত
মামলাটি দায়ের হওয়ার পর আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (PBI)-কে নির্দেশ দেয়। পিবিআই দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে গত ১০ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আনোয়ারুল হক হিরো আলমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা (Warrant) জারির আদেশ দেন। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির এক সপ্তাহ পর আজ আত্মগোপনে থাকা এই Content Creator পুলিশের জালে ধরা পড়লেন।
পুলিশি ভাষ্য ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর গণমাধ্যমকে জানান, আদালতের স্থায়ী আদেশের ভিত্তিতে হিরো আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং আদালতের নির্দেশেই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বিচারাধীন এই মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হবে। হিরো আলমের এই গ্রেফতারের সংবাদটি ইতোমধ্যে Social Media-তে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।