ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘দ্বিমুকুটে’ ভূষিত হওয়ার পর নিজের রাজনৈতিক সমীকরণ চূড়ান্ত করলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকার আভিজাত্য বনাম বগুড়ার পৈতৃক দুর্গের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত রাজধানীর আসনটিকেই বেছে নিলেন তিনি। ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬—উভয় আসনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর আইন অনুযায়ী একটি আসন ছেড়ে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
সিইসি-কে পাঠানো চিঠিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিএনপি চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (CEC) দপ্তরে পৌঁছানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের (Member of Parliament) শপথ অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। এর আগেই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তারেক রহমান তার এই পছন্দের কথা কমিশনকে জানিয়ে দেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের পর শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ২৯৭ জন প্রার্থীর গেজেট (Gazette Notification) প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।
আরপিও ও আইনি বাধ্যবাধকতা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বা Representation of the People Order (RPO) অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি একাধিক আসন থেকে নির্বাচন করতে পারলেও বিজয়ী হওয়ার পর যেকোনো একটি আসনই নিজের জন্য রাখতে পারেন। আরপিও-র ১৯(১)(খ) ধারা অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচিত প্রার্থীকে জানাতে হয় তিনি কোন আসনটি ধরে রাখতে চান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে ব্যর্থ হলে কমিশন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে আসন শূন্য ঘোষণা করে। তারেক রহমান সেই সময়সীমার অপেক্ষা না করেই শপথের আগেই ঢাকা-১৭ আসন রাখার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করলেন।
বগুড়ায় পাহাড়সম জয়, ঢাকায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমানের জয় ছিল আকাশচুম্বী। ১৫০টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি ২ লক্ষ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল (দাঁড়িপাল্লা) পান ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। অর্থাৎ, বগুড়ার মানুষ তাকে বিপুল ব্যবধানে জয়ী করে তাদের আস্থার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
অন্যদিকে, ঢাকার ‘প্রেস্টিজিয়াস’ আসন ঢাকা-১৭ তে লড়াই হয়েছে বেশ জমজমাট। সেখানে তারেক রহমান পেয়েছেন ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর এস এম খালিদুজ্জামান ৬৮ হাজার ৩০০ ভোট পেয়ে কড়া টক্কর দিয়েছেন। মাত্র ৪ হাজার ৩৯৯ ভোটের ব্যবধানে এই আসনে জয়ী হন বিএনপি প্রধান। রাজধানীর কূটনৈতিক ও গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকাটি নিজের কাছে রাখাকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক গুরুত্ব ও শপথ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ আসনের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে নিজের বলিষ্ঠ উপস্থিতি জানান দিতেই তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনটি বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ঢাকা-১৭ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষ ৩৩ হাজার ৮১৩ জন হলেও ভোট পড়েছিল ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৮৮৮টি। মঙ্গলবার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই ঢাকা-১৭ আসনের বিধিসম্মত প্রতিনিধি হিসেবে তার কার্যক্রম শুরু হবে। অন্যদিকে, বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষিত হওয়ায় সেখানে পরবর্তীতে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।