টালিউড তথা টিনসেল টাউনের গ্ল্যামার ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর আইনি লড়াই। বনগাঁর একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া তিক্ততা এবার পৌঁছেছে চরম সীমায়। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পরই মিমির বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকার মানহানির মামলা ঠুকেছিলেন জ্যোতিষী তনয় শাস্ত্রী। তবে দমে যাওয়ার পাত্রী নন মিমি। সেই পদক্ষেপের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই তনয় শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে পাল্টা ২ কোটি টাকার মানহানির মামলা (Defamation Case) দায়ের করেছেন এই তারকা-সাংসদ।
আইনি লড়াইয়ে পাল্টা চাল: ২০ লাখের বদলে ২ কোটি
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি লাইভের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৩ দিন জেল খাটার পর জামিনে মুক্তি পান তনয় শাস্ত্রী। বাইরে এসেই তিনি অভিযোগ করেন, মিমির করা অভিযোগে তাঁর সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এই মর্মেই তিনি ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করেন। কিন্তু ১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার মিমির আইনি প্রতিনিধিরা তনয় শাস্ত্রীর এই পদক্ষেপের পাল্টা জবাব দেন। অভিনেত্রী কেবল ২ কোটি টাকার মামলা করেই ক্ষান্ত হননি, বরং তনয় শাস্ত্রীকে দিয়েছেন কড়া আল্টিমেটাম।
৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ও শর্তাবলি
মিমি চক্রবর্তীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তাঁকে হেনস্তা করার জন্য তনয় শাস্ত্রীকে জনসমক্ষে ক্ষমা চাইতে হবে। পাশাপাশি, মিমির বিরুদ্ধে দায়ের করা ২০ লাখ টাকার মামলাটি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করে নিতে হবে। যদি এই শর্তগুলো পূরণ না করা হয়, তবে আইনত পরবর্তী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল যুগে একজন তারকার ভাবমূর্তি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়, আর সেখানেই আঘাত আসায় মিমি যে আপসহীন অবস্থানে, তা তাঁর এই ২ কোটি টাকার পাল্টা মামলাতেই স্পষ্ট।
নেপথ্যে বনগাঁর সেই বিতর্কিত ঘটনা
এই আইনি যুদ্ধের সূত্রপাত গত ২৫ জানুয়ারি উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয়। সেখানে একটি শীতকালীন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিমি চক্রবর্তী। অভিযোগ ওঠে, অনুষ্ঠান চলাকালীন তনয় শাস্ত্রী হঠাৎই মঞ্চে বা আয়োজকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন যাতে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে মিমি দ্রুত দর্শকদের উদ্দেশ্যে ‘শুভরাত্রি’ জানিয়ে মঞ্চ ত্যাগ করেন।
এরপরই মিমির পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে হেনস্তার (Harassment) অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ জ্যোতিষী তনয় শাস্ত্রীকে গ্রেফতার করেছিল। দীর্ঘ ১৩ দিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকার পর সম্প্রতি তিনি জামিন পান।
তারকা বনাম সাধারণের লড়াই না কি মর্যাদার যুদ্ধ?
বিনোদন জগতের বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি কেবল একজন অভিনেত্রী ও একজন জ্যোতিষীর মধ্যকার বিবাদ নয়, বরং এটি পেশাদারিত্ব ও জনসমক্ষে আচরণের এক বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিমি চক্রবর্তীর মতো একজন হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানানো যেমন সাহসের পরিচয়, তেমনি মিমি যেভাবে বিপুল অংকের পাল্টা মামলার মাধ্যমে জবাব দিয়েছেন, তা তাঁর ব্র্যান্ড ভ্যালু (Brand Value) এবং আত্মসম্মান রক্ষার লড়াই হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
আপাতত সবার নজর আদালতের পরবর্তী নির্দেশের দিকে। তনয় শাস্ত্রী কি মিমির দাবি মেনে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইবেন, না কি এই Legal Battle আরও দীর্ঘায়িত হবে, তা সময়ই বলবে।