মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মাঝে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পাল্টা জবাব দিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তেহরানের অনমনীয় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
চাপের মুখে নতি স্বীকার নয় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, “বিশ্বশক্তিগুলো আমাদের মাথা নত করাতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। কিন্তু তারা আমাদের জন্য যত বড় সমস্যাই সৃষ্টি করুক না কেন, আমরা কারো চাপের কাছে মাথা নত করব না।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরান সবসময় আলোচনার পথ খোলা রেখেছে, তবে তা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে।
ট্রাম্পের আল্টিমেটাম ও সামরিক প্রস্তুতি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আনতে ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের ওপর চরম চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের নৌবহর মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে ‘সীমিত হামলার’ বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে একটি চুক্তিতে না পৌঁছালে তেহরানকে ‘ভয়াবহ পরিণাম’ ভোগ করতে হতে পারে।
চুক্তির সম্ভাবনা ও বর্তমান পরিস্থিতি এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে এবং তা কয়েক দিনের মধ্যেই প্রস্তুত হতে পারে। তবে ট্রাম্পের কঠোর সময়সীমা এবং সামরিক হুমকির ফলে আলোচনার পরিবেশ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘ম্যাক্সিমাম প্রেশার’ বা সর্বোচ্চ চাপের নীতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আশঙ্কা, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে পেজেশকিয়ানের সাম্প্রতিক মন্তব্য দুই দেশের মধ্যকার অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।