• জীবনযাপন
  • রোজায় সুস্থ থাকতে সেহরিতে যেসব খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি

রোজায় সুস্থ থাকতে সেহরিতে যেসব খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি

সেহরির ভুল খাদ্যাভ্যাস আপনার রোজা রাখাকে কষ্টকর করে তুলতে পারে। জানুন সুস্থ থাকতে কোন খাবারগুলো থেকে দূরে থাকবেন।

জীবনযাপন ১ মিনিট পড়া
রোজায় সুস্থ থাকতে সেহরিতে যেসব খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি

পবিত্র রমজান মাসে দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর সুস্থ থাকা এবং সারাদিনের ক্লান্তি দূর করা অনেকটা নির্ভর করে সেহরির খাদ্যাভ্যাসের ওপর। সঠিক ও স্বাস্থ্যকর খাবার নির্বাচন না করলে সারাদিন পানিশূন্যতা, বদহজম এবং শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। তাই সেহরিতে কোন খাবারগুলো আমাদের বর্জন করা উচিত, তা জানা অত্যন্ত জরুরি।

রোজা পালনের ক্ষেত্রে সেহরি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সারাদিনের প্রয়োজনীয় শক্তি সঞ্চয় এবং শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সঠিক খাবারের কোনো বিকল্প নেই। তবে অসাবধানতাবশত আমরা এমন কিছু খাবার খেয়ে ফেলি যা উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে। নিচে সেহরিতে বর্জনীয় খাবারগুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো।

প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবার সেহরির তালিকায় আমরা অনেকেই প্যাকেটজাত বা ফ্রোজেন খাবার রাখি। কিন্তু প্রসেসড খাবারে সাধারণত অতিরিক্ত লবণ, চিনি এবং অস্বাস্থ্যকর চর্বি থাকে। এসব খাবার হজমে সমস্যা সৃষ্টি করার পাশাপাশি খুব দ্রুত ক্ষুধা বাড়িয়ে দেয়। ফলে রোজার সময় শরীরে দুর্বলতা ও অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার অতিরিক্ত তেল বা মশলাযুক্ত খাবার সেহরিতে খেলে বদহজম, বুক জ্বালাপোড়া এবং পেট ফাঁপার মতো সমস্যা হতে পারে। এসব খাবার শরীরকে ভারী করে তোলে এবং সারাদিন চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সুস্থ থাকতে সেহরিতে ভাজাপোড়া পুরোপুরি এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় ও চা-কফি অনেকেই মনে করেন সেহরিতে চা বা কফি খেলে সারাদিন সতেজ থাকা যাবে। কিন্তু ক্যাফেইন শরীর থেকে দ্রুত পানি বের করে দেয় (Diuretic effects), যার ফলে শরীরে দ্রুত পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে এবং ঘনঘন তৃষ্ণা লাগে। তাই সেহরিতে চা-কফি পরিহার করে পর্যাপ্ত সাধারণ পানি পান করা উচিত।

অতিরিক্ত মিষ্টি ও ডেজার্ট চিনি সমৃদ্ধ খাবার বা মিষ্টি জাতীয় ডেজার্ট রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে বাড়িয়ে দেয় এবং ঠিক একইভাবে দ্রুত নামিয়ে ফেলে। এর ফলে রোজা রাখা অবস্থায় খুব অল্প সময়েই শরীর অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তাই দীর্ঘ সময় শক্তি ধরে রাখতে মিষ্টির বদলে আঁশযুক্ত খাবার বেছে নিন।

অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা অনেকের মধ্যে ধারণা কাজ করে যে, সেহরিতে বেশি পরিমাণে খেলে হয়তো সারাদিন ক্ষুধা লাগবে না। কিন্তু অতিরিক্ত খাবার শরীরের পরিপাকতন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। এতে সারাদিন অস্বস্তি ও অলসতা অনুভূত হতে পারে। তাই পরিমিত এবং সুষম খাবার গ্রহণই রমজানে সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি।

Tags: healthy eating food habits bengali lifestyle ramadan 2026 ramadan diet sehri-tips