সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করার সময় অধিকাংশ দম্পতিই সরাসরি গর্ভধারণের চেষ্টা করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, 'প্রি-কনসেপশন চেকআপ' বা গর্ভধারণপূর্ব পরীক্ষা সুস্থ সন্তানের জন্ম দিতে বড় ভূমিকা পালন করে। নিচে নারী ও পুরুষের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলোর তালিকা দেওয়া হলো।
নারীদের জন্য জরুরি স্বাস্থ্য পরীক্ষা
সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে মায়ের শরীরের সুস্থতা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের ক্ষেত্রে প্রধানত নিচের পরীক্ষাগুলো করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা:
- হরমোন টেস্ট: থাইরয়েড ও প্রোল্যাক্টিন হরমোনের ভারসাম্য ঠিক আছে কি না তা জানা প্রয়োজন। হরমোনের তারতম্য হলে গর্ভধারণে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
- ওভারিয়ান রিজার্ভ টেস্ট (AMH): এই পরীক্ষার মাধ্যমে ডিম্বাণুর মজুত সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। বিশেষ করে যারা ত্রিশোর্ধ্ব বয়সে সন্তান নিতে চান, তাদের জন্য এটি জরুরি।
- পেলভিক আল্ট্রাসাউন্ড: জরায়ু বা ডিম্বাশয়ে কোনো সিস্ট, ফাইব্রয়েড বা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) আছে কি না তা শনাক্ত করতে এই পরীক্ষা করা হয়।
- রক্তের সাধারণ পরীক্ষা: হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ও ব্লাড সুগার পরীক্ষা করা জরুরি। রক্তাল্পতা বা ডায়াবেটিস থাকলে গর্ভাবস্থায় জটিলতা বাড়তে পারে।
- সংক্রমণ পরীক্ষা: হেপাটাইটিস বি, সি এবং রুবেলার মতো ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া দরকার।
পুরুষদের যেসব পরীক্ষা করা প্রয়োজন
সন্তান ধারণে কেবল মায়ের নয়, বাবার সুস্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পুরুষদের ক্ষেত্রে যে পরীক্ষাগুলো জরুরি:
- বীর্য পরীক্ষা (Semen Analysis): শুক্রাণুর সংখ্যা, গতিশীলতা এবং গঠন ঠিক আছে কি না তা নিশ্চিত করতে এই পরীক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- হরমোন প্রোফাইল: টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক কি না তা পরীক্ষা করা হয়, কারণ এটি প্রজনন ক্ষমতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
- লাইফস্টাইল ডিজিজ চেকআপ: উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং ডায়াবেটিস প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। তাই এই সাধারণ পরীক্ষাগুলো করিয়ে নেওয়া উচিত।
- যৌনবাহিত রোগ পরীক্ষা: কোনো প্রকার সংক্রমণ (STI) থাকলে তা দম্পতির মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি করতে পারে।
কেন এই প্রস্তুতি প্রয়োজন?
সচেতনভাবে প্রস্তুতি নিলে সন্তান জন্মদানের প্রক্রিয়ায় জটিলতা অনেক কমে যায়। আগে থেকে সমস্যা ধরা পড়লে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে তা সমাধান করে নিরাপদ গর্ভধারণ সম্ভব। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাই সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তের অন্তত তিন মাস আগে থেকে দম্পতিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সঠিক চিকিৎসকের পরামর্শই পারে একটি সুস্থ শিশুর জন্ম নিশ্চিত করতে।