• জীবনযাপন
  • ভারী ইফতারের পর রাতের খাবার কখন? রোজা রেখে হজমের সমস্যা এড়াতে মেনে চলুন পুষ্টিবিদের এই ফর্মুলা

ভারী ইফতারের পর রাতের খাবার কখন? রোজা রেখে হজমের সমস্যা এড়াতে মেনে চলুন পুষ্টিবিদের এই ফর্মুলা

জীবনযাপন ১ মিনিট পড়া
ভারী ইফতারের পর রাতের খাবার কখন? রোজা রেখে হজমের সমস্যা এড়াতে মেনে চলুন পুষ্টিবিদের এই ফর্মুলা

সারাদিন উপবাসের পর ইফতারে ভাজাভুজি বা ভারী খাবার খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই; তবে শরীর সুস্থ রাখতে ইফতার ও রাতের খাবারের মধ্যে সঠিক বিরতি এবং খাদ্যতালিকা নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি।

সিয়াম সাধনার এই মাসে সারাদিন না খেয়ে থাকার পর ইফতারের টেবিলে হরেক রকমের খাবারের সমারোহ থাকে। দীর্ঘ সময়ের ক্ষুধা মেটাতে অনেকেই ইফতারে বিরিয়ানি, হালিম কিংবা ভাজাভুজির মতো ‘হেভি মিল’ বা ভারী খাবারকে প্রাধান্য দেন। তবে বিপত্তি বাঁধে রাতের খাবার বা ডিনার নিয়ে। অনেকেই দ্বিধায় থাকেন ইফতারের পর ঠিক কখন রাতের খাবার খাওয়া উচিত, আবার কেউ কেউ ভারী ইফতারের দোহাই দিয়ে রাতের খাবার একবারে বাদ দিয়ে দেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এই দুটি অভ্যাসই স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

ইফতার ও রাতের খাবারের আদর্শ ব্যবধান

ইফতার ও রাতের খাবারের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান কেমন হওয়া উচিত, তা নির্ভর করে আপনি ইফতারে কী ধরনের খাবার খাচ্ছেন তার ওপর। এ বিষয়ে ইউএস বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল পুষ্টিবিদ (Clinical Nutritionist) মাহফুজা নাসরীন শম্পা গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।

তাঁর মতে, “ইফতারে যদি কেউ ভারী খাবার গ্রহণ করেন, তবে তার অন্তত ৩ ঘণ্টা পর রাতের খাবার খাওয়া উচিত। তবে এক্ষেত্রে একটি শর্ত রয়েছে—রাতের খাবারটি অবশ্যই হতে হবে অত্যন্ত হালকা এবং সহজপাচ্য।”

ভারী ইফতারের ক্ষেত্রে করণীয়

অনেক সময় পারিবারিক বা সামাজিক আয়োজনে ইফতারে ক্যালরিবহুল খাবার খাওয়া হয়ে যায়। পুষ্টিবিদদের মতে, ভারী খাবার খাওয়ার পরপরই শুয়ে বা বসে থাকা বিপাক প্রক্রিয়ার (Metabolism) জন্য ক্ষতিকর। এতে বুক জ্বালাপোড়া বা অ্যাসিডিটির সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। তাই ভারী ইফতারের পর অন্তত ১৫-২০ মিনিট হালকা হাঁটাহাঁটি করা উচিত। এটি আপনার পরিপাকতন্ত্রকে (Digestive System) সচল রাখতে সাহায্য করবে। মনে রাখতে হবে, বারবার ভারী খাবার গ্রহণ করলে লিভার ও পাকস্থলীর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।

হালকা ইফতার বনাম ডিনার রুটিন

যারা ইফতারে শুধু পানি, খেজুর, ফল কিংবা দই-চিঁড়ার মতো হালকা খাবার খান, তাদের জন্য নিয়মটি কিছুটা ভিন্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন:

১. ইফতার হালকা হলে এর ঠিক এক ঘণ্টা পরেই রাতের খাবার খেয়ে নেওয়া যেতে পারে। ২. রাতের খাবারে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং ফাইবারের সুষম সমন্বয় থাকা জরুরি। খাদ্যতালিকায় অল্প ভাত বা রুটির সাথে ডাল, মাছ বা মাংস এবং প্রচুর পরিমাণে সবজি রাখা আদর্শ। ৩. খাবার খাওয়ার সময় কখনোই পেট পূর্ণ করে খাওয়া উচিত নয়। বরং পাকস্থলীর কিছু অংশ খালি রাখা হজমে সহায়ক।

রাত ১০টার ‘ডেডলাইন’

রোজার সময় ডিনারের ক্ষেত্রে সময়জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদ মাহফুজা নাসরীন শম্পার পরামর্শ হলো, রাত ১০টার পর কোনোভাবেই রাতের খাবার খাওয়া উচিত নয়। কারণ রাতের গভীরতার সাথে সাথে মানুষের শরীরের হজম প্রক্রিয়া ধীরগতির হয়ে যায়। দেরি করে খেলে সেই খাবার চর্বি হিসেবে শরীরে জমা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। তাই একটি সুস্থ হেলথ রুটিন (Health Routine) বজায় রাখতে রাত ১০টার মধ্যেই ডিনার সম্পন্ন করা বাঞ্ছনীয়।

পানি ও পুষ্টির গুরুত্ব

রাতের খাবারে ভাতের চেয়ে পানিজাতীয় খাবার, রঙিন ফলমূল এবং শাকসবজিকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া উচিত। এটি কেবল হজমেই সাহায্য করে না, বরং সারাদিনের পানিশূন্যতা রোধ করে শরীরকে পরবর্তী দিনের রোজার জন্য প্রস্তুত করে।

মনে রাখবেন, রোজা কেবল ধর্মীয় বিধান নয়, এটি শরীরকে ডিটক্স (Detox) করারও একটি সুযোগ। তাই সঠিক সময়ে সঠিক খাবার গ্রহণের মাধ্যমে আপনি রমজানেও থাকতে পারেন সতেজ ও প্রাণবন্ত।

Tags: digestive health healthy lifestyle nutrition tips metabolism boost balanced diet ramadan health fasting tips iftar timing dinner routine clinical nutritionist