ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে টিকে থাকার লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল শ্রীলঙ্কা। তবে নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ১৬৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে লঙ্কানরা। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে মাত্র ১০৭ রান তুলতে সক্ষম হয় তারা।
লঙ্কান ব্যাটিংয়ে কিউই পেস ও স্পিনের আঘাত রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ম্যাট হেনরির তোপের মুখে পড়ে শ্রীলঙ্কা। ইনিংসের প্রথম বলেই শূন্য রানে আউট হন ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা। পাওয়ার প্লের মধ্যেই হেনরি তুলে নেন চারিথ আসালাঙ্কার (৫) উইকেটও। এরপর শুরু হয় রাচিন রবীন্দ্রর স্পিন জাদু। লঙ্কান মিডল অর্ডারে ধস নামিয়ে তিনি তুলে নেন ৪টি উইকেট। কুশল মেন্ডিস (১১), পাভান রত্নায়েক (১০), অধিনায়ক দাসুন শানাকা (৩) এবং দুসান হেমন্ত (৩) দ্রুত বিদায় নিলে জয়ের আশা শেষ হয়ে যায় লঙ্কানদের। শেষ দিকে কামিন্দু মেন্ডিস ৩১ এবং দুনিথ ভেল্লালাগে ২৯ রান করলেও তা কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছিল।
নিউজিল্যান্ডের লড়াকু ইনিংস ও স্যান্টনারের ঝড় এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের শুরুটাও খুব একটা মসৃণ ছিল না। ফিল অ্যালেন ১৩ বলে ২৩ রান করে দ্রুত বিদায় নেন। মিডল অর্ডারে রাচিন রবীন্দ্রর ৩২ এবং গ্লেন ফিলিপসের ১৮ রানের ওপর ভর করে এগোচ্ছিল কিউইরা। তবে ইনিংসের মাঝপথে রানের গতি মন্থর হয়ে পড়লে চাপে পড়ে তারা। সেই চাপ সামাল দেন অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ও কোল ম্যাককঞ্চি। স্যান্টনার মাত্র ২৬ বলে ৪৭ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন, যাতে ছিল ৪টি ছক্কা ও ২টি চারের মার। অন্যদিকে ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন ম্যাককঞ্চি। তাদের ৮৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটির ওপর ভর করে ১৬৮ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে নিউজিল্যান্ড।
সেমিফাইনালের পথে কিউইরা এই জয়ে ২ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে নিউজিল্যান্ড। ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে ইংল্যান্ড। ১ পয়েন্ট নিয়ে পাকিস্তান তিনে থাকলেও, টানা দুই হারে টেবিলের তলানিতে থেকে বিদায় নিশ্চিত হলো শ্রীলঙ্কার। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করে রাচিন রবীন্দ্র ৪টি উইকেট শিকার করেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে মহেশ থিকসানা ও দুশমান্থা চামিরা ৩টি করে উইকেট নিলেও দলের হার ঠেকাতে পারেননি।