• দেশজুড়ে
  • সাতক্ষীরায় মাত্র ৬০০ টাকা ঘুষের জন্য ঠিকাদারকে ঘরে তালাবদ্ধ করার অভিযোগ

সাতক্ষীরায় মাত্র ৬০০ টাকা ঘুষের জন্য ঠিকাদারকে ঘরে তালাবদ্ধ করার অভিযোগ

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে লঙ্কাকাণ্ড; ঘুষের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে ঠিকাদারকে ১ ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ।

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
সাতক্ষীরায় মাত্র ৬০০ টাকা ঘুষের জন্য ঠিকাদারকে ঘরে তালাবদ্ধ করার অভিযোগ

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে মাত্র ৬০০ টাকা ঘুষ নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে জাহাঙ্গীর হোসেন নামে এক ঠিকাদারকে প্রায় এক ঘণ্টা তালাবদ্ধ করে রাখার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর হোসেন তালা উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক বলে জানা গেছে।

সাতক্ষীরায় সরকারি দপ্তরে ঘুষের দাবি এবং এর জেরে এক ঠিকাদারকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগী ঠিকাদারের অভিযোগ, অতিরিক্ত ঘুষ দিতে অস্বীকার করায় তাকে কার্যালয়ের একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।

ঘুষ নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা ও অবরুদ্ধের ঘটনা ভুক্তভোগী ঠিকাদার জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, একটি টেন্ডারের ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা জামানত ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তিনি বুধবার উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) আলামিন হোসেনকে ১ হাজার টাকা ঘুষ দেন। বৃহস্পতিবার ফাইলটি চূড়ান্ত করার সময় ওই প্রকৌশলী আরও ৫০০ টাকা এবং পিয়নের জন্য ১০০ টাকা দাবি করেন। এই অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অফিসের কর্মচারীদের সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। জাহাঙ্গীরের দাবি, একপর্যায়ে উপজেলা প্রকৌশলী ইয়াকুব আলীর নির্দেশে তাকে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। পরে অন্যান্য ঠিকাদাররা খবর পেয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় ঘটনাটি চলাকালীন জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক সালাউদ্দীন লিটন ফেসবুক লাইভ করলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং শহরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে ঠিকাদারকে অবরুদ্ধ রাখার বিষয়টি ফুটে উঠলে স্থানীয় প্রশাসনের ওপর চাপের সৃষ্টি হয়।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থন তবে ঘুষের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদর উপজেলা প্রকৌশলী ইয়াকুব আলী। তার দাবি, ঠিকাদার জাহাঙ্গীর হোসেন এসও আলামিনের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন এবং তাকে মারতে উদ্যত হন। পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং জাহাঙ্গীরকে 'সেভ' করার উদ্দেশ্যেই তাকে একটি ঘরে তালাবদ্ধ রাখা হয়েছিল। পরে জেলা ঠিকাদার কল্যাণ কমিটির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।

প্রশাসনের তদন্তের আশ্বাস সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত জানান, খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছেন। তবে ঘুষ দাবি করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

Tags: bangladesh local news satkhira lged corruption allegation contractor-locked