প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, অতীতের সরকারগুলোর মধ্যে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি ছিল না, কিন্তু বর্তমান সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নিজের নির্বাচনী এলাকা নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের দুর্গাপুরে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সরকারি সফরে এসে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও Accountability নিশ্চিতের ডাক উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সরকারি কর্মচারীদের জনসেবায় মনোনিবেশ করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, "আগের সরকারগুলো জবাবদিহিতা বা Accountability নিশ্চিত করতে পারেনি বলেই জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। আমাদের সরকার একটি দায়বদ্ধতার সরকার। এখানে প্রতিটি কাজের জন্য মানুষের কাছে জবাব দিতে হবে, এটা সবাইকে মনে রাখতে হবে।"
কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, "আজ এক জায়গায় কাজ করছেন, কাল অন্য জায়গায় বদলি হবেন—এমন মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব অবহেলা করার সুযোগ নেই। যেখানেই থাকুন না কেন, কাজের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা আপনাদের সাথে থাকবে।" তার এই বক্তব্য উপস্থিত Administrative কর্মকর্তাদের মধ্যে পেশাদারিত্ব ও সততার নতুন বার্তা দেয়।
দখলমুক্ত হবে খাল: ইশতেহার বাস্তবায়নে অনড় অবস্থান সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে (Manifesto) নদী ও খাল খননের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এই অঞ্চলে এক সময় অসংখ্য প্রাণবন্ত খাল ছিল, যার একটি বড় অংশ বর্তমানে প্রভাবশালী মহলের অবৈধ দখলে (Encroachment) চলে গেছে। এমনকি কোথাও কোথাও অন্য মন্ত্রণালয়ও বিধি বহির্ভূতভাবে জমি বরাদ্দ নিয়েছে।"
ব্যারিস্টার কামাল ঘোষণা দেন যে, সব অবৈধ দখল খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাল খননের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে এবং অচিরেই এর কাজ শুরু হবে।
পরিবেশ ও কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের লক্ষ্য নদীর পাশাপাশি খাল খননের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী একে কেবল সৌন্দর্যবর্ধন নয়, বরং পরিবেশ ও অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, "খাল খননের মাধ্যমে আমরা Environmental Balance বা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে চাই। এছাড়া এটি আমাদের স্থানীয় কৃষকদের জন্য Irrigation বা সেচের বিকল্প ও সাশ্রয়ী মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।"
সফরের শেষ পর্যায়ে ভূমি প্রতিমন্ত্রী দুর্গাপুর পৌরসভাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি পৌরসভা কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং চলমান নাগরিক সেবা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় তিনি একটি বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন। অনুষ্ঠানে নেত্রকোনা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।