• আন্তর্জাতিক
  • মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: ইসরাইল ত্যাগের জরুরি নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের, উপকূলে পৌঁছাল মার্কিন রণতরি

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: ইসরাইল ত্যাগের জরুরি নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের, উপকূলে পৌঁছাল মার্কিন রণতরি

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: ইসরাইল ত্যাগের জরুরি নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের, উপকূলে পৌঁছাল মার্কিন রণতরি

ইরানের সাথে পারমাণবিক আলোচনায় চরম অচলাবস্থার জেরে দূতাবাস কর্মীদের সরিয়ে নিচ্ছে ওয়াশিংটন; বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু থাকতেই নাগরিকদের দেশ ছাড়ার পরামর্শ।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার পারদ এবার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে। তেহরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কার মুখে ইসরাইলে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিক ও কম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তাদের দ্রুত ওই দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।

পরমাণু আলোচনায় অচলাবস্থা ও নিরাপত্তা সতর্কতা দীর্ঘদিন ধরে চলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক কর্মসূচি (Nuclear Program) সংক্রান্ত আলোচনা কোনো সুরাহা ছাড়াই শেষ হওয়ার পর এই নাটকীয় সিদ্ধান্ত নিল ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল। বাণিজ্যিক ফ্লাইট (Commercial Flights) চলাচলের সুবিধা থাকা অবস্থাতেই মার্কিন নাগরিকদের ইসরাইল ত্যাগ করার কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। একই সাথে নতুন করে কাউকেই ইসরাইল ভ্রমণে না যাওয়ার কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রদূতের ইমেইল ও জরুরি প্রস্থান ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি দূতাবাস কর্মীদের পাঠানো এক গোপন ইমেইল বার্তায় পরিস্থিতির গাম্ভীর্য তুলে ধরেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, যারা জরুরি সেবার সাথে যুক্ত নন, তাদের পরিবারের সদস্যদের দ্রুত ইসরাইল ত্যাগ করতে হবে। বার্তায় তিনি বলেন, “যেখানে যেভাবে সম্ভব দ্রুত টিকিট কেটে ইসরাইল থেকে বেরিয়ে পড়ুন।” এই বার্তাটি প্রকাশিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক মহলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

জেনেভা বৈঠক ও ইউরেনিয়াম সংকট সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সম্প্রতি তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনা (Indirect Talks) অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সেখানে মূল সংকট ঘনীভূত হয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ (Uranium Enrichment) নিয়ে। ওয়াশিংটন চায় তেহরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নিক। অন্যদিকে, ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নিজেদের মাটিতে পারমাণবিক গবেষণা ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সার্বভৌম অধিকার তারা কিছুতেই ত্যাগ করবে না। এই কূটনৈতিক অচলাবস্থার (Diplomatic Standstill) মাঝেই ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি ওয়াশিংটনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাথে দেখা করতে গেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ইরানকে সামরিক হামলা থেকে রক্ষা করার জন্য শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।

রণতরি মোতায়েন ও রণপ্রস্তুতি কূটনৈতিক আলোচনার সমান্তরালে সামরিক শক্তি প্রদর্শনেও পিছুপা হচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ইসরাইল উপকূলে এসে পৌঁছেছে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ (USS Gerald R. Ford)। এই রণতরি মোতায়েনকে একটি ‘Strategic Deployment’ হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। এটি কেবল ইসরাইলকে সুরক্ষাই নয়, বরং ইরানকে একটি কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার শামিল।

আগামী সপ্তাহের ভিয়েনা বৈঠক উত্তেজনার এই চূড়ান্ত মুহূর্তেও আলোচনার ক্ষীণ পথ খোলা রাখা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর কার্যালয়ে একটি প্রযুক্তিগত পর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হবে। যদি সেখানেও কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি না হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের দিকে ধাবিত হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল।

Tags: middle east tension global security diplomatic crisis uranium enrichment uss gerald ford us israel news iran nuclear talks embassy evacuation iaea vienna military buildup