• বিনোদন
  • ২৭ বছরের দাম্পত্যে যবনিকা: পরকীয়া বিতর্কে বিচ্ছেদের পথে দক্ষিণী মেগাস্টার বিজয় থালাপাতি

২৭ বছরের দাম্পত্যে যবনিকা: পরকীয়া বিতর্কে বিচ্ছেদের পথে দক্ষিণী মেগাস্টার বিজয় থালাপাতি

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
২৭ বছরের দাম্পত্যে যবনিকা: পরকীয়া বিতর্কে বিচ্ছেদের পথে দক্ষিণী মেগাস্টার বিজয় থালাপাতি

অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানের সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ স্ত্রী সংগীতা; বিনোদন দুনিয়া থেকে রাজনীতির ময়দান—বিজয়কে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

দীর্ঘ ২৭ বছরের এক অটুট সম্পর্কের অবসান হতে চলেছে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার অপ্রতিদ্বন্দ্বী তারকা ও নবগঠিত রাজনৈতিক দল ‘তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম’-এর প্রধান বিজয় থালাপাতির। পর্দার আদর্শ নায়ক হিসেবে পরিচিত বিজয়ের ব্যক্তিগত জীবনে এখন টালমাটাল পরিস্থিতি। স্ত্রী সংগীতা স্বর্ণালিঙ্গম আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন জমা দিয়েছেন ভারতের চেঙ্গলপট্টু জেলা আদালতে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই ভারতের বিনোদন এবং রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে।

বিচ্ছেদের মূলে 'তৃতীয় ব্যক্তি': কাঠগড়ায় তৃষা কৃষ্ণান বিজয় ও সংগীতার সুখী গৃহকোণে ফাটল ধরার নেপথ্যে উঠে এসেছে অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানের নাম। দীর্ঘদিনের গুঞ্জনকে সত্যি করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’র প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিজয়ের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সংগীতা। অভিযোগ উঠেছে, ২০২১ সাল থেকেই তৃষার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে বিজয়ের। সংগীতার দাবি, বিষয়টি জানার পর বিজয় তাকে সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে। সম্প্রতি তৃষা ও বিজয়ের বিদেশ সফরের খবর এবং সামাজিক মাধ্যমে তাদের ঘনিষ্ঠ ছবি এই অভিযোগের পালে আরও হাওয়া দিয়েছে।

মানসিক ও আর্থিক স্বাধীনতার সংকট আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে সংগীতা কেবল পরকীয়ার অভিযোগই আনেননি, বরং বিজয়ের বিরুদ্ধে পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে তাকে সামাজিক অনুষ্ঠান এবং জনসমক্ষ থেকে দূরে রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ঘরের চার দেওয়ালে তার আর্থিক ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় নিয়মিত হস্তক্ষেপ করতেন অভিনেতা। বিজয়ের মতো একজন ‘Global Icon’-এর স্ত্রীর এমন অভিযোগ তার ‘Public Image’-এ বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিব্রত সন্তান ও সামাজিক সম্মানহানি বিজয় ও সংগীতার দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে দুই সন্তান রয়েছে। সংগীতার অভিযোগ অনুযায়ী, বাবার এমন কর্মকাণ্ডে সন্তানদের নিয়মিত বিব্রত হতে হচ্ছে। একজন দায়িত্বশীল পিতা এবং রাজনীতিক হিসেবে বিজয়ের এই আচরণ তার পরিবারের জন্য সম্মানহানিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন নিরব থাকলেও পরকীয়া ও ব্যক্তিগত অসম্মানের বোঝা আর বইতে না পেরেই আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সংগীতা।

রাজনীতির ময়দানে কি প্রভাব ফেলবে এই বিচ্ছেদ? সম্প্রতি বিজয় থালাপাতি তার রাজনৈতিক দল ঘোষণা করেছেন এবং তামিলনাড়ুর আসন্ন নির্বাচনে তার বড় ধরনের প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ ভারতীয় রাজনীতিতে সাধারণত পারিবারিক ইমেজ বা 'Family Man' হিসেবে পরিচিতি ভোটব্যাংকে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই সন্ধিক্ষণে তার বিচ্ছেদের খবর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের হাতে বড় হাতিয়ার তুলে দিতে পারে। তার ‘Political Career’ এবং ‘Market Value’ এই সংকটের মুখে কতটা টিকে থাকে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

আইনি প্রক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ আগামী ২০ এপ্রিল চেঙ্গলপট্টু জেলা আদালতে এই বিচ্ছেদ মামলার প্রথম শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) আবেদন জমা পড়ার পর থেকে অভিনেতা বিজয় থালাপাতির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভক্তদের একাংশ যখন নায়কের ব্যক্তিজীবন নিয়ে বিচলিত, অন্য অংশটি তখন পর্দার নায়কের এমন চারিত্রিক স্খলনে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।