আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দেশব্যাপী পালিত হচ্ছে ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস। নিরব ঘাতক হিসেবে পরিচিত এই ব্যাধি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের গুরুত্ব জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই দিবসের মূল লক্ষ্য। প্রতি বছরের মতো এবারও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।
ঐতিহ্যের ৭০ বছর ও বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি আজকের দিনটি কেবল সচেতনতা দিবসেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দেশের স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম পথিকৃৎ ‘Bangladesh Diabetic Association’-এর ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৫৬ সালের এই দিনেই প্রখ্যাত চিকিৎসক ও সমাজসেবক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিমের উদ্যোগে সমিতিটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সাত দশকের এই দীর্ঘ যাত্রায় প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে এবং অগণিত রোগীকে সুলভে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছে।
রাজধানীসহ সারাদেশে সচেতনতামূলক কর্মসূচি দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির বিভিন্ন অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এবং জেলা পর্যায়ের অধিভুক্ত সমিতিগুলো দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর শাহবাগে বারডেম (BIRDEM) হাসপাতালের সামনে সচেতনতামূলক স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করা হয়। চিকিৎসাকর্মী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই কর্মসূচিটি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
এছাড়া বারডেম অডিটোরিয়ামে একটি বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞগণ এই রোগের ঝুঁকি, ‘Early Diagnosis’ বা প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ের গুরুত্ব এবং জটিলতা এড়াতে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির প্রয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।
প্রতিরোধে প্রয়োজন সচেতনতা ও সুস্থ জীবনধারা বর্তমান বিশ্বে ডায়াবেটিস একটি ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য সমস্যা। চিকিৎসকদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং কায়িক পরিশ্রমের অভাব এই রোগের প্রধান কারণ। আজকের আলোচনা সভাগুলোতে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ‘Healthy Lifestyle’ বা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম ডায়েট এবং সঠিক সময়ে ‘Check-up’ করার মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বাড়ছে এই রোগের ঝুঁকি, যা মোকাবিলায় সচেতনতার বিকল্প নেই।
স্বাস্থ্য খাতের নতুন চ্যালেঞ্জ আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে এখন ‘Data-driven’ পদ্ধতিতে ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনা অনেক সহজ হয়েছে। বাংলাদেশেও এখন উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয়ে ডায়াবেটিস রোগীদের সেবা প্রদান করা হচ্ছে। তবে তৃণমূল পর্যায়ে এই সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া এবং রোগ শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াকে আরও সহজলভ্য করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস মূলত সেই লক্ষ্য পূরণের একটি শক্তিশালী ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।