• আন্তর্জাতিক
  • আগ্রাসনের চরম প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরাইলি সব সম্পদ এখন ইরানের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’

আগ্রাসনের চরম প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরাইলি সব সম্পদ এখন ইরানের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
আগ্রাসনের চরম প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরাইলি সব সম্পদ এখন ইরানের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’

‘কোনো লাল রেখা মানা হবে না’, আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে নজিরবিহীন ও দীর্ঘস্থায়ী পরিণতির হুমকি দিল তেহরান।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে (Geopolitics) এক ভয়াবহ যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে ইরান সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরাইলি সব ধরনের স্থাপনা ও সম্পদ এখন তাদের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ (Legitimate Target)। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নজিরবিহীন যৌথ বিমান হামলার পর তেহরানের পক্ষ থেকে এই কঠোর প্রতিক্রিয়া এল। এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের প্রতিশোধমূলক প্রতিক্রিয়া হবে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এর কোনো সীমারেখা থাকবে না।

‘লাল রেখা’ অতিক্রম ও সীমাহীন প্রতিক্রিয়ার ঘোষণা কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ওই ইরানি কর্মকর্তা বলেন, “ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর এই নগ্ন আগ্রাসনের পর আমাদের সামনে আর কোনো ‘রেড লাইন’ (Red Line) বা লাল রেখা অবশিষ্ট নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করেছে, যার প্রতিক্রিয়া হবে দীর্ঘস্থায়ী এবং ব্যাপক।” তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, ইরান এমন কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে যা আগে কখনো বিবেচনা করা হয়নি। এই পাল্টা হামলা কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা দেশগুলোর সব ধরনের কৌশলগত স্বার্থের ওপর আঘাত হানার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন-ইসরাইল জোটের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ইরানি ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই ‘Joint Aggression’ বা যৌথ আগ্রাসনে মোটেও অবাক হননি। বরং তেহরান আগে থেকেই এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল। তিনি আরও বলেন, “আমাদের পরবর্তী প্রতিক্রিয়া হবে অত্যন্ত জটিল (Complex Response) এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিশ্ববাসী খুব শীঘ্রই তাদের চোখের সামনে এই প্রতিশোধের দৃশ্য দেখতে পাবে।” উল্লেখ্য, শনিবার সকালে ইরানের বিভিন্ন পয়েন্টে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালায় মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনী, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সরাসরি সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সংযমের আহ্বান নাকচ: তেহরানের কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলের পক্ষ থেকে ইরানকে সংযম দেখানোর যে কোনো আহ্বানকে সরাসরি ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ওই কর্মকর্তার ভাষায়, “ইরানকে আত্মসমর্পণ বা সংযম দেখানোর পরামর্শ দেওয়া একটি অলীক চিন্তা মাত্র। আমরা আমাদের ‘Strategic Assets’ এবং জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় সম্ভাব্য সব ধরনের শক্তি প্রয়োগ করতে দ্বিধা করব না।” এই বক্তব্য থেকে পরিষ্কার যে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত প্রশমনের পরিবর্তে এক দীর্ঘমেয়াদী এবং অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের পথে এগোচ্ছে দুই পক্ষ।

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই ‘Open Threat’ বা প্রকাশ্য হুমকি কেবল বাগাড়ম্বর নয়, বরং এর পেছনে গভীর সামরিক পরিকল্পনা থাকতে পারে। যদি ইরান সত্যিই মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি কিংবা তেল খনিগুলোর মতো ‘Strategic Interests’-এ আঘাত হানে, তবে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধিসহ বিশ্ব অর্থনীতিতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। ‘Regional Conflict’ এখন বিশ্বযুদ্ধের মতো বড় বিপদের ছায়া ফেলছে। ইরান-ইসরাইল এই সরাসরি সম্মুখ সমর মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রকে নতুন করে বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, যা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।

Tags: middle east military strike regional conflict us israel legitimate target global tension iran news tehran warning red line strategic assets