মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে তেহরানের ভয়াবহ পাল্টা জবাব। ইরানের ছোড়া একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে উত্তাল হয়ে উঠেছে সমগ্র উপসাগরীয় অঞ্চল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে অন্তত একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ‘Missile Defense System’ দিয়ে প্রতিহত করার চেষ্টা করা হলেও এর ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
আবুধাবিতে হাহাকার: আমিরাতের কড়া হুঁশিয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, আবুধাবিতে একটি বিকট বিস্ফোরণের পর সেখানে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আমিরাত সরকার একে ‘National Sovereignty’ বা জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং ‘International Law’-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। আমিরাত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেকোনো আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে। এই ঘটনায় পুরো শহরজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আকাশসীমা বন্ধ: থমকে গেছে উপসাগরীয় অঞ্চলের যোগাযোগ পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের নিজস্ব ‘Airspace’ বা আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক রুটের শত শত ফ্লাইট বাতিলের মুখে পড়েছে, যা বিশ্বব্যাপী আকাশপথে চলাচলের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ‘Aviation Industry’-তে এর প্রভাব হবে দীর্ঘমেয়াদী বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাহরাইনে মার্কিন নৌঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বাহরাইনের পরিস্থিতি। দেশটির জাফায়ার এলাকায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ‘5th Fleet’-এর সদর দফতর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পর মানামার আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জরুরি ‘Security Alert’ জারি করে নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এলাকায় এই সরাসরি আঘাত ‘Regional Conflict’-কে এক নতুন ও বিপজ্জনক মাত্রায় নিয়ে গেছে।
কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরবে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ কেবল আবুধাবি বা বাহরাইন নয়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের আরও বেশ কয়েকটি দেশ। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা একটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে আল জাজিরার দাবি, কাতারের বিভিন্ন স্থানে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটেছে। কুয়েতেও উচ্চশব্দে সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং বাসিন্দারা বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। এছাড়া এএফপি জানিয়েছে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদও এই কম্পন থেকে রক্ষা পায়নি; সেখানেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান-ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সরাসরি সম্মুখ সমর মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রকে এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। ইরানের এই ‘Tactical Response’ প্রমাণ করে যে তারা যেকোনো মূল্যে তাদের ওপর হওয়া হামলার বদলা নিতে বদ্ধপরিকর। অন্যদিকে, ‘Global Economy’ এবং বিশেষ করে তেলের বাজারে এই যুদ্ধের প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ‘Escalation’ থামাতে কী ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।