আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিজের শিকড় ও সংগ্রামের গল্প শুনিয়েছেন শারমীন সুলতানা সুমী। খুলনার খালিশপুরে বেড়ে ওঠা এই শিল্পী নিজেকে ঝিনাইদহের শৈলকূপার প্রয়াত মকবুল হোসেন ও শেলী মকবুলের চতুর্থ কন্যা হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
দুই দশকের পথচলা ও অর্জন সুমী জানান, তিনি প্রায় ২৪ বছর ধরে ব্যান্ড সংগীতের সঙ্গে এবং প্রায় ১৯ বছর ধরে বিজ্ঞাপন শিল্পে অসংখ্য ব্র্যান্ডের ক্রিয়েটিভ ও কৌশলগত কাজের সঙ্গে যুক্ত। জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘চিরকুট’-এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি এ দেশের ধুলামাটির গল্পকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। ছোট শহর থেকে উঠে এসেও দমে না যাওয়াটাই ছিল তাঁর পথচলার প্রধান শক্তি।
ক্ষমা ও সাহসের গল্প নিজের যাপিত জীবন নিয়ে সুমী লিখেছেন, “ভুল করলে ক্ষমা চেয়েছি, কাউকে কষ্ট দিলে ‘সরি’ বলতে দেরি করিনি—তবে মাথা উঁচু করে পথচলা থামাইনি।” প্রতিকূলতার মধ্যেও হাসি ও ভালোবাসা নিয়ে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন তিনি। নারী পরিচয়ের চেয়ে একজন মানুষ হিসেবেই তিনি কাজ করে যেতে চেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
সমালোচনার মুখেও অবিচল ক্যারিয়ারে নানা সময় অপবাদ ও অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়েছে সুমীকে। তবে তিনি হাল ছাড়েননি। তাঁর ভাষ্যে, তিনি কখনো একা বড় হতে চাননি, বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়াকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। গানের কথা ও সুরের মাধ্যমে তিনি অসংখ্য মানুষের সাহস হয়ে উঠতে পেরেছেন বলে বিশ্বাস করেন।
ভবিষ্যৎ ভাবনা ও শুভেচ্ছা পোস্টের শেষাংশে সুমী বলেন, পৃথিবী দ্রুত বদলে যাচ্ছে, তাই হতাশার মধ্যেও ভালো থাকার উপকরণ খুঁজে নিতে হবে। কনসার্ট হোক বা স্টুডিও—কাজের মধ্য দিয়েই তিনি নতুন অধ্যায় তৈরি করতে চান। নারী দিবস উপলক্ষে সব প্রতিকূলতা জয় করে হাসিমুখে কাজ করে যাওয়া নারী ও পুরুষদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি নিজেকেও কিছুটা সময় দেওয়ার এবং নিজের প্রতি সদয় হওয়ার আহ্বান জানান।