ঢাকা ও আঙ্কারার মধ্যকার বিদ্যমান মৈত্রী ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা দিকসহ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একে অপরের পরিপূরক হয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ ও বহুমাত্রিক সহযোগিতা অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। আলোচনায় গুরুত্ব পায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য (Trade) ও বিনিয়োগ (Investment) বৃদ্ধির সম্ভাবনা। রাষ্ট্রদূত রামিস সেন বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশংসা করেন এবং তুরস্কের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় ধরনের বিনিয়োগে উৎসাহিত করার আশ্বাস দেন। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, জ্বালানি এবং শিক্ষা খাতে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনা বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল প্রতিরক্ষা সহযোগিতা (Defense Cooperation)। তুরস্কের উন্নত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি বাংলাদেশে হস্তান্তরের পাশাপাশি সামরিক প্রশিক্ষণের বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পায়। এছাড়াও প্রযুক্তি (Technology) ও অবকাঠামো উন্নয়ন (Infrastructure Development)-সহ বিভিন্ন কারিগরি ক্ষেত্রে তুরস্কের সহায়তার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষই ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও মুসলিম বিশ্বের চ্যালেঞ্জ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে ঢাকা ও আঙ্কারার অভিন্ন অবস্থানের কথা তুলে ধরেন উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের (Muslim Ummah) বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, মানবিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশ দুটির পারস্পরিক সমর্থন জোরদারের বিষয়ে গভীর আলোচনা হয়। ফিলিস্তিন ইস্যুসহ রোহিঙ্গা সংকটে তুরস্কের ধারাবাহিক মানবিক সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
জাতিসংঘে তুরস্কের অকুণ্ঠ সমর্থন এই সৌজন্য সাক্ষাতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতি তুরস্কের বিশেষ ঘোষণা। রাষ্ট্রদূত রামিস সেন জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের (81st Session of UNGA) সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি তুরস্ক পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করেছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ের পর আঙ্কারার এই সমর্থন বৈশ্বিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে ঢাকার নেতৃত্বের পথ সুগম করবে।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেন যে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে, যা দুই দেশের জনগণের কল্যাণে একযোগে কাজ করার প্রত্যয়কে ত্বরান্বিত করবে।