• জাতীয়
  • ঈদযাত্রায় স্বস্তি ফেরাতে বড় প্রস্তুতি রেলে

ঈদযাত্রায় স্বস্তি ফেরাতে বড় প্রস্তুতি রেলে

নামছে নতুন কোচ, যুক্ত হচ্ছে বিশেষ রেক

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
ঈদযাত্রায় স্বস্তি ফেরাতে  বড় প্রস্তুতি রেলে

নাজমুল হাসান

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপ সামলাতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। যাত্রী চাহিদার কথা মাথায় রেখে ট্রেনের কোচ সংখ্যা বৃদ্ধি, অচল কোচ মেরামত এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানিকৃত আধুনিক বগি যুক্ত করার মাধ্যমে রেলওয়ের বহর সাজানো হচ্ছে। ১৬ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত এই বিশেষ ঈদযাত্রা ও ফিরতি যাত্রা চলবে।

এদিকে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে ওয়ার্কশপে গত দুই মাস ধরে দিন-রাত চলছে কোচ মেরামতের কাজ। বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক মোস্তফা জাকির হাসান জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্যমাত্রা ১২২টি কোচ মেরামত করা। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ সচল কোচের সংস্কার এবং বাকি ৫০ শতাংশ পরিত্যক্ত বগিগুলোকে নতুন রূপ দিয়ে চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৯৪টি কোচের কাজ শেষ, বাকিগুলো ঈদযাত্রার আগেই রেলের বহরে যুক্ত হবে। কোন রুটে কত কোচ?

রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, এবার ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে সর্বোচ্চ সংখ্যক বাড়তি কোচ যোগ করা হবে। বিশেষ করে বিরতিহীন সুবর্ণ ও সোনার বাংলা এক্সপ্রেসে বগির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া তূর্ণা, মহানগর গোধূলি, মহানগর এক্সপ্রেস, পাহাড়িকা, উদয়ন, বিজয় ও মেঘনা এক্সপ্রেসেও বাড়তি কোচ থাকবে। ঢাকা-কক্সবাজার রুটের পর্যটক ও কক্সবাজার এক্সপ্রেসও এই বাড়তি সুবিধার আওতায় থাকছে।

অন্যদিকে এবার ঈদযাত্রায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আনা মিটারগেজ কোচ। এসব আধুনিক কোচ দিয়ে তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেসের নতুন একটি রেক সাজানো হচ্ছে। তূর্ণার বর্তমান সেটটি চলে যাবে মহানগর এক্সপ্রেসে। আর মহানগর এক্সপ্রেসের কোচগুলো সংস্কার করে যুক্ত করা হবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের প্রবাল ও সৈকত এক্সপ্রেসে। এর ফলে দীর্ঘদিন পর এই রুটের যাত্রীরা শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত কামরাসহ পূর্ণাঙ্গ আন্তঃনগর ট্রেনের সুবিধা পেতে যাচ্ছেন।

সব প্রস্তুতি থাকলেও রেলওয়ের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিনের তীব্র অভাব। বর্তমানে ৩ হাজার কোচ ও ৩০০ ইঞ্জিনের প্রয়োজন থাকলেও সচল আছে ২ হাজারের কিছু বেশি কোচ এবং মাত্র দুই শতাধিক ইঞ্জিন। বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলে (চট্টগ্রাম) সংকট প্রকট। সেখানে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে অন্তত ৮৫টি ইঞ্জিন প্রয়োজন হলেও সচল আছে ৭০টির মতো। ফলে শিডিউল বিপর্যয়ের একটি সূক্ষ্ম শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

রেলওয়ের যুগ্ম পরিচালক (অপারেশন) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, নতুন ও পুরনো বগির সমন্বয় করে আমরা একটি স্ট্যান্ডার্ড কম্পোজিশন অনুযায়ী ট্রেন চালানোর চেষ্টা করছি। জ্বালানি তেলের দাম ও সড়কপথের চাপের কারণে এবার ট্রেনে যাত্রীর চাপ বেশি হবে, তাই আমরা সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে কাজ করছি।

Tags: ঈদযাত্রায় স্বস্তি প্রস্তুতি রেলে