মাথায় টুপি, মুখে প্রশান্তির হাসি—একই ফ্রেমে ধরা দিলেন বিশ্বখ্যাত ইসলামি স্কলার ড. জাকির নায়েক এবং বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। দুই ভিন্ন জগতের দুই জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের এই মিলনমুহূর্তের একটি ছবি এখন Social Media-তে রীতিমতো ভাইরাল। স্বয়ং ড. জাকির নায়েক তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে ছবিটি শেয়ার করার পর থেকেই ডিজিটাল স্পেসে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
কোথায় হলো এই স্মরণীয় সাক্ষাৎ? ছবিটির পটভূমি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য উল্লেখ করা না হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সৌদি আরবের পবিত্র ভূমিতেই তাদের এই সাক্ষাৎ ঘটেছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ঐতিহাসিক বিজয়ে বড় ভূমিকা রাখার পর বিরতি পেয়েই ওমরাহ হজ পালনের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন মিরাজ। পবিত্র ওমরাহ পালনের কোনো এক পর্যায়ে তিনি ড. জাকির নায়েকের সান্নিধ্য পান এবং এই ফ্রেমবন্দি মুহূর্তটি তৈরি হয়।
ক্যাপশনে ‘অধিনায়ক’ বিভ্রাট ও ডিজিটাল বিপত্তি ড. জাকির নায়েক ছবিটি পোস্ট করার পর তার ক্যাপশনটি নজর কেড়েছে নেটিজেনদের। ক্যাপশনে তিনি মিরাজকে একজন ‘মুসলিম অ্যাথলেট’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।’ তবে মজার বিষয় হলো, পোস্টের শুরুতে মিরাজকে ভুলবশত টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিল।
ধারণা করা হচ্ছে, গুগল সার্চ বা যান্ত্রিক কোনো ত্রুটির কারণে এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে শান্ত টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিলেও, মিরাজ ওয়ানডে ফরম্যাটে টাইগারদের কান্ডারি। দ্রুতই সেই ভুলটি সংশোধন করা হলেও বিষয়টি নিয়ে ভক্তদের মধ্যে বেশ কৌতূহল দেখা গেছে।
দুই জগতের দুই তারকা মেহেদী হাসান মিরাজ বর্তমান বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম বড় বিজ্ঞাপন। বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে অলরাউন্ড পারফরম্যান্স তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। অন্যদিকে, ড. জাকির নায়েক ভারতের মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করলেও ২০১৬ সাল থেকে ভারত সরকারের বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়ায় স্থায়ী আশ্রয় বা Permanent Residency গ্রহণ করেছেন। সারাবিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে তিনি একজন প্রভাবশালী ইসলামি বক্তা ও ধর্মতাত্ত্বিক হিসেবে পরিচিত।
প্রভাবশালী দুই ব্যক্তিত্বের এই সাক্ষাৎ কেবল ভক্তদের মনে আনন্দই দেয়নি, বরং এটি ক্রীড়া ও আধ্যাত্মিকতার এক মেলবন্ধন হিসেবেও অনেকে দেখছেন। মিরাজের ওমরাহ সফর এবং এমন অনুপ্রেরণামূলক সাক্ষাতের পর তিনি আরও উজ্জীবিত হয়ে মাঠে ফিরবেন—এমনটাই প্রত্যাশা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের।