শক্তিমত্তা আর অভিজ্ঞতায় ভিয়েতনামের চেয়ে বাংলাদেশ কতটা পিছিয়ে, তার তিক্ত স্বাদ মিলল মাঠের লড়াইয়ের প্রথম ৪৫ মিনিটেই। শক্তিশালী একাদশ এবং প্রবাসী তারকাদের উপস্থিতিতেও হ্যানয়ের মাঠে প্রথমার্ধেই তিন গোল হজম করে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে হাভিয়ের কাবরেরার দল। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক ভিয়েতনামের গতির কাছে লাল-সবুজদের রক্ষণভাগ যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে।
হ্যানয়ে শক্তির ব্যবধান ও মাঠের লড়াই বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি মূলত আগামী ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এএফসি এশিয়ান কাপ (AFC Asian Cup) বাছাইপর্বের প্রস্তুতির অংশ। তবে প্রস্তুতির শুরুটা বাংলাদেশের জন্য মোটেও সুখকর হয়নি। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ৭৮ ধাপ এগিয়ে থাকা ভিয়েতনাম শুরু থেকেই হাই-প্রেসিং (High-pressing) ফুটবল খেলে কাবরেরার শিষ্যদের ব্যতিব্যস্ত করে রাখে।
রক্ষণভাগের ভুলে শুরুতেই বড় ধাক্কা ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করে ব্যাকফুটে চলে যায় বাংলাদেশ। খেলার মাত্র ৮ মিনিটের মাথায় কর্নার থেকে আসা বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন লেফট-ব্যাক জায়ান আহমেদ। বল তার শরীরে লেগে জালে জড়ালে আত্মঘাতী গোলের (Own Goal) লজ্জা পায় লাল-সবুজরা। সেই ক্ষত না শুকাতেই ১৮তম মিনিটে পাম জুয়ান মানের চমৎকার ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ২-০ করে ফেলে ভিয়েতনাম। বাংলাদেশের রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষকের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ছিল স্পষ্ট।
হামজা-শমিতদের উপস্থিতিতেও ছন্দহীন বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় চমক ছিল লেস্টার সিটির তারকা হামজা দেওয়ান চৌধুরীর অভিষেক। হামজা ছাড়াও একাদশে ছিলেন শমিত সোম, জায়ান আহমেদ এবং ফাহামেদুল ইসলামের মতো হাই-প্রোফাইল প্রবাসী ফুটবলাররা। নিয়মিত অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার অনুপস্থিতিতে আর্মব্যান্ড ছিল সোহেল রানার হাতে। তবে তারকাখচিত এই মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগ প্রথমার্ধে ভিয়েতনামের ডিফেন্স লাইনে কোনো বড় হুমকি তৈরি করতে পারেনি। উল্টো ৩৮তম মিনিটে ভিয়েতনামের গুয়েন হেই লং দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করে বাংলাদেশের ম্যাচে ফেরার সব পথ প্রায় বন্ধ করে দেন।
কৌশলগত ব্যর্থতা ও কাস্টিং বিশ্লেষণ প্রথমার্ধের পুরোটা সময় বাংলাদেশ মূলত রক্ষণাত্মক বা Defensive কৌশলে খেলেছে। মাঝেমধ্যে দুই-একটি কাউন্টার অ্যাটাক (Counter-attack) করার চেষ্টা করলেও ভিয়েতনামের প্রেসিং ফুটবলের সামনে সেগুলো খেই হারিয়ে ফেলে। বিশেষ করে উইং দিয়ে ভিয়েতনামের আক্রমণগুলো সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের।
বিরতির পর বাংলাদেশ কোচ নতুন কোনো Tactical পরিবর্তন এনে ব্যবধান কমাতে পারেন কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। তবে প্রথমার্ধের পারফরম্যান্স বুঝিয়ে দিয়েছে, এশীয় ফুটবলের শীর্ষ দেশগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিতে হলে বাংলাদেশের ফুটবল পরিকাঠামো ও কৌশলে আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।