ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হরমুজ প্রণালি নিয়ে বড় পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন।
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন আধিপত্যের পরিকল্পনা মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা অথবা আন্তর্জাতিক জোট গঠনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন করতে চায়। মূলত তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারের স্থিতিশীলতা ফেরানোই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রণালি বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহনের প্রধান রুট, যা বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়তে পারে।
নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও বিকল্প পথ তেল সংকট কাটাতে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে কিছু কৌশলী পদক্ষেপ নিচ্ছে। সরবরাহ বাড়াতে সমুদ্রে অবস্থানরত রাশিয়া ও ইরানের তেলবাহী জাহাজের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে। এছাড়া ইরানের সঙ্গে পৃথক আলোচনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে জাহাজ চলাচল সচল করার চেষ্টাও চলছে বলে জানা গেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্বেগ ও জরুরি বৈঠক তেলের এই বিশাল ঘাটতি এবং জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে উদ্বিগ্ন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। উদ্ভূত সংকট মোকাবিলায় ইইউ-ভুক্ত দেশগুলোর জ্বালানি মন্ত্রীরা একটি জরুরি বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেখানে বিকল্প জ্বালানি উৎস এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি? ভৌগোলিকভাবে হরমুজ প্রণালি মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জন্য প্রধান বহির্গমন পথ। ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী এই জলপথটি বন্ধ হওয়ার অর্থ হলো বিশ্ববাজার থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানির বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া। বর্তমানে চলমান যুদ্ধের কারণে এই পথটি অনিরাপদ হয়ে পড়ায় বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।