বিগত এক দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতি থেকে পাচার হওয়া অর্থের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে জাতীয় নাগরিক কমিটির অন্যতম শীর্ষ নেতা সারজিস আলমের বক্তব্যে। তিনি অভিযোগ করেছেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বাণিজ্যের আড়ালে দেশ থেকে যে পরিমাণ সম্পদ বিদেশে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা জাতীয় উন্নয়নের জন্য এক বিশাল অপূরণীয় ক্ষতি।
পাচার হওয়া অর্থের বিশালতা সারজিস আলম তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, ২০১৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে বাণিজ্যের আড়ালে মোট ৬ হাজার ৮৩০ কোটি ডলার পাচার করা হয়েছে। বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৮ লাখ কোটি টাকা। তিনি এই পরিসংখ্যানকে বিগত সরকারের লুটপাটের আমলের একটি নিয়মিত চিত্র হিসেবে অভিহিত করেন।
২৫টি পদ্মা সেতুর সমান সম্পদ পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ সাধারণ মানুষের কাছে আরও স্পষ্ট করতে তিনি দেশের বৃহত্তম মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতুর উদাহরণ টেনে আনেন। সারজিস দাবি করেন, এই সাড়ে ৮ লাখ কোটি টাকা দিয়ে বাংলাদেশে ২৫টি পদ্মা সেতু তৈরি করা সম্ভব হতো। অর্থাৎ, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে এই অর্থ ব্যবহার করলে চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারত।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় সারজিস আলমের এই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নেটিজেনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। পোস্টে তিনি আক্ষেপ করে লিখেছেন, 'এভাবেই চলেছে শেখ হাসিনার লুটপাটের আমল!'
উল্লেখ্য, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বিভিন্ন ছাত্র-নাগরিক সংগঠনগুলো বিগত আমলের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থান নিয়েছে। পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার ও দায়ীদের শাস্তির দাবিতে দেশব্যাপী জনমত জোরালো হচ্ছে।