বাঙালি সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বৈশাখী ভাতার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সরকার। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও কয়েক হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো বিল সাবমিট (Bill Submit) না করায় পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, কয়েক হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর ভাতার আবেদন এখনো ঝুলে আছে।
ইএমআইএস সেলের তথ্য ও বর্তমান চিত্র
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ইএমআইএস (EMIS) সেল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ মার্চ থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতার বিল সাবমিট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কিন্তু মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট পর্যন্ত প্রাপ্ত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ১ হাজার ১৬৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২২ হাজার ৯৩৪ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বিল এখনো সাবমিট করা হয়নি। মাঠ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের এমন গড়িমসিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।
বিপাকে শিক্ষা প্রশাসন: কেন এই দেরি?
ইএমআইএস সেলের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এই বিলম্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, প্রতিবারই বিল সাবমিট নিয়ে এক ধরণের জটিলতা তৈরি হয়। তিনি বলেন, “এই মাসটি নিয়ে আমরা অত্যন্ত চাপের মধ্যে আছি। একই সাথে মার্চ মাসের বেতন এবং বৈশাখী ভাতার বিল প্রসেস করতে হচ্ছে। সোমবার সকাল পর্যন্ত দেখা গিয়েছিল অনেক প্রতিষ্ঠান গড়িমসি করছে। বিকেলের দিকে সংখ্যাটি কিছুটা কমলেও এখনো বড় একটি অংশ বাকি রয়ে গেছে। যারা সময়মতো সাবমিট করেছেন, তারা দ্রুতই ব্যাংকে টাকা পেয়ে যাবেন। কিন্তু যারা এখনো করেননি, তাদের জন্য পুরো প্রক্রিয়াটি থমকে আছে।”
চূড়ান্ত সময়সীমা ও প্রস্তাবনা প্রেরণ
মাউশি সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী বুধবারের (১ এপ্রিল) মধ্যে সকল বিল সাবমিশন প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলকভাবে শেষ করতে হবে। অধিদপ্তরের লক্ষ্য হচ্ছে বৃহস্পতিবারের মধ্যে চূড়ান্ত প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে (Ministry of Education) পাঠানো। যদি এর মধ্যে বিল সাবমিট না করা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের ভাতা পেতে দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হতে পারে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৭ মার্চ এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতার অপশনটি সিস্টেমে চালু করা হয়। পাশাপাশি মার্চ মাসের নিয়মিত বেতনের বিল সাবমিট করার শেষ সময় ছিল ২৮ মার্চ। ইএমআইএস সেলের কর্মকর্তারা বারবার তাগিদ দিচ্ছেন যেন এপ্রিলের ২ তারিখের মধ্যে বিল সংক্রান্ত সকল দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করা যায়।
শিক্ষকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান
শিক্ষা অধিদপ্তরের আইটি ও ইএমআইএস উইংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারিগরি কোনো সমস্যা থাকলে তা দ্রুত সমাধান করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ডিজিটাল সিস্টেমে ডাটা এন্ট্রি সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় বাজেট বরাদ্দ থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বৈশাখী উৎসবের আগে টাকা পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
প্রতিবছর মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী ভাতা পেয়ে থাকেন এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা। এই উৎসব ভাতা তাদের জীবনযাত্রায় বাড়তি আনন্দ যোগ করে। তাই উৎসবের আমেজ বজায় রাখতে দ্রুত বিল সাবমিট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে মাউশি।