রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীতে আজ বুধবার বেলা ১১টা। ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাইরেন বাজার সঙ্গে সঙ্গেই বদলে গেল চিরচেনা দৃশ্যপট। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ‘Encroachment’ বা অবৈধ দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে ডিএমপির ঝটিকা অভিযানে দেখা গেল এক বিরল চিত্র। অভিযান শুরুর মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় ফাঁকা হয়ে গেল ফুটপাত; দোকানি ও ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নিলেন তাদের মালামাল।
তৎপরতা ও স্বতঃস্ফূর্ত পলায়ন
ট্রাফিক গুলশান বিভাগের উদ্যোগে পরিচালিত এই ‘Eviction Drive’ বা উচ্ছেদ অভিযানের শুরুতেই এলাকাজুড়ে এক ধরনের সতর্কতা তৈরি হয়। ডিএমপি কমিশনারের সাম্প্রতিক গণবিজ্ঞপ্তির আলোকে পরিচালিত এই অভিযানে দেখা যায়, পুলিশের গাড়ি পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় মালামাল সরানোর তোড়জোড়। ফুটপাতে রাখা দোকানের বর্ধিত অংশ, বড় বড় গ্রিল মেশিন, রান্নার বিশাল সরঞ্জাম, আসবাবপত্র এবং ওয়ার্কশপের ভারী যন্ত্রপাতি মুহূর্তের মধ্যেই সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে এতো দ্রুততার মাঝেও আইন অমান্য করে রাখা কয়েকটি হোটেলের মালামাল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তারা জানান, ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা কেবল অবৈধই নয়, এটি পথচারীদের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। নিয়মিত নজরদারি এবং ‘Mobile Court’ পরিচালনার ফলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও সচেতনতা তৈরি হয়েছে। ফলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়েই তারা আইনি দণ্ড এড়াতে দ্রুত সরে যান।
ট্রাফিক গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “আমরা রাজধানীর ফুটপাত ও সড়ক সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী রাখতে বদ্ধপরিকর। আমাদের এই ‘Zero Tolerance’ নীতি কেবল একদিনের জন্য নয়, আগামীতেও এই তদারকি কঠোরভাবে বজায় রাখা হবে।”
সমন্বিত তদারকি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এদিনের বিশেষ অভিযানে ডিএমপির একজন স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত থেকে আইনি প্রক্রিয়া তদারকি করেন। এ সময় ট্রাফিক গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রমের সমন্বয় করেন।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, কেবল বনানী নয়, রাজধানীর প্রতিটি ব্যস্ত এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে পর্যায়ক্রমে এই ধরনের চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে ‘Traffic Management’ উন্নত করতে এবং পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সিভিল ও ট্রাফিক পুলিশ যৌথভাবে কাজ করবে। সাধারণ নাগরিকরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলছেন, নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা গেলে ঢাকাকে একটি বাসযোগ্য ও জটমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।