সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সশরীরে ক্লাস নেওয়ার সম্ভাব্য সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল পেরেন্টস ফোরাম। সংগঠনটি মনে করছে, এই ‘Hybrid Model’ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অপূরণীয় ক্ষতি করবে। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ফোরামের সভাপতি এ কে এম আশরাফুল হক এই প্রতিবাদ জানান এবং পড়াশোনা ব্যাহত না করে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ৪টি বাস্তবসম্মত বিকল্প প্রস্তাব পেশ করেন।
অভিভাবকদের ওপর বাড়তি আর্থিক ও মানসিক চাপ
বিবৃতিতে আশরাফুল হক বলেন, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে উচ্চগতির High-speed Internet এবং প্রয়োজনীয় Digital Device-এর খরচ মেটানো সাধারণ অভিভাবকদের ওপর বাড়তি আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এই খরচ সামলানো অত্যন্ত কঠিন।
এ ছাড়া, অধিকাংশ ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীর মা-বাবা কর্মজীবী। অফিস চলাকালীন বাসায় সন্তানদের অনলাইন ক্লাস তদারকি করা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব। তদারকির অভাবে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় ফাঁকি দেওয়ার পাশাপাশি ডিভাইস আসক্তির ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে অভিভাবক সংগঠনটি।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ৪টি বিকল্প প্রস্তাব
অনলাইন ক্লাসের পরিবর্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা সচল রেখে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য পেরেন্টস ফোরাম ৪টি প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে:
১. ৩+৩ মডেল বাতিল: সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন ও ৩ দিন সশরীরে ক্লাসের পরিবর্তে ৪ দিন পূর্ণাঙ্গ সশরীরে (Offline) ক্লাস চালু রাখা। বাকি ৩ দিন স্কুল সম্পূর্ণ ছুটি রাখা। এতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত খরচ এবং প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ—উভয়ই উল্লেখযোগ্য হারে সাশ্রয় হবে। ২. কার্যঘণ্টা হ্রাস: প্রয়োজনে স্কুলের প্রতিদিনের কার্যঘণ্টা বা ক্লাসের ব্যাপ্তিকাল কিছুটা কমিয়ে আনা। ৩. এসি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ: শ্রেণিকক্ষে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসির ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। ৪. প্রাকৃতিক আলোর ব্যবহার: কৃত্রিম বা বৈদ্যুতিক বাতির বদলে শ্রেণিকক্ষে প্রাকৃতিক আলো ও বাতাসের ব্যবহার নিশ্চিত করার মতো অভ্যন্তরীণ Energy Saving পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
পরীক্ষার মৌসুমে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়, বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে গিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে যেন খাদের কিনারে ঠেলে দেওয়া না হয়। বর্তমানে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোর ‘O-Level’ ও ‘A-Level’ পরীক্ষা অত্যন্ত সন্নিকটে। পাশাপাশি মে মাসে সাধারণ স্কুলগুলোর ‘Session Final’ শুরু হওয়ার কথা। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সশরীরে ক্লাস বন্ধ করলে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের ধস নামবে এবং দীর্ঘমেয়াদে তারা পিছিয়ে পড়বে।
অভিভাবক ফোরামের দাবি, সরকার যেন জাতীয় সংকটে শিক্ষা খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে বিকল্প উপায়ে জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা চিন্তা করে। তারা অবিলম্বে ৩ দিন অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ও সশরীরে পাঠদান সচল রাখার জোর দাবি জানান।